১০ টাকার তেলও কিনছেন ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে অস্বাভাবিকহারে বেড়ে চলেছে ভোজ্য তেলের দাম। ফলে অনেকটা নিরুপায় হয়ে ১০ টাকার তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বল্প আয়ের অনেক ক্রেতা। রাজধানীর এলাকাভিত্তিক দোকানগুলোতে খুচরা তেল বিক্রি করলেও বেশিরভাগ দোকানদার এত অল্প তেল বিক্রি করতে চান না। উল্টো নানান কথা বলে ‘নাক সিটকান’।

দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষগুলো যেমন চাহিদা অনুযায়ী তেল কিনতে পারছেন না, একইভাবে বিক্রিও কমেছে ব্যবসায়ীদের। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই দ্বিমুখী ক্ষতিতে পড়েছেন।

নিত্য এ পণ্যটির বিক্রি কমেছে উল্লেখ করে বাড্ডা কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, তিনি সবচেয়ে কম দামি পাম অয়েল তেল এখন ১১৫ টাকায় লিটার বিক্রি করছেন। খোলা সয়াবিন তেল ১৩০ টাকা; এক লিটার বোতলজাত তেল ১৪০ এবং পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৬০ টাকায় (লিটার ১১২ টাকা) বিক্রি করছেন।

ইত্তেহাদকে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় ক্রেতারা কষ্টে আছেন। এখন এক ও আধা লিটারের কাস্টমার (ক্রেতা) কম। এক ও আধ পোয়া, এক ও আধ ছটাক তেলের কাস্টমার বেশি। বাধ্য হয়ে ১০, ১৫ ও ২০ টাকার তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা তেল বিক্রিতে লাভ কম। কখনও কেজি প্রতি পাঁচ টাকাও থাকে না।’

এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আগে ড্রামভর্তি তেল কিনে আনতাম, এখন পারি না। দাম বাড়ায় এক ড্রাম তেল কিনতে ২৩ হাজার টাকা লাগে। ফলে ড্রামভর্তি তেল আনার ক্ষমতা নেই আমার। তাই এখন লিটারপ্রতি পাইকারি তেল কিনে আনি (১১৬ টাকা, খরচসহ ১২৫ টাকা কেনা পড়ে), বিক্রি করি ১৩০ টাকায়। যেভাবে চলছে তেলের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। ক্রেতা ও আমরা (বিক্রেতা) সমস্যায় আছি।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এনায়েতুল্লাহ ইত্তেহাদকে বলেন, ‘চাল, ডাল ও তেলের দাম বাড়ায় এখন বেতনের অর্থে মাস পার করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে সব কিছু কমিয়ে দিয়েছি। লজ্জার কিছু নেই, চলতে তো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য চার জন। আগে আধা লিটার করে দৈনিক লাগত। এখন স্ত্রীকে ১০-২০ টাকার তেল দিয়ে প্রয়োজন মেটাতে বলি।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিবিসি) তথ্য অনুযায়ী, খোলা তেলের লিটার বিক্রি করার কথা ১১৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীর বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বোতলজাত তেলের লিটার। খোলা তেলের দাম ১১৬-১২০ টাকা।

অথচ গত বছরের এ সময়ে খোলা তেলের লিটার ছিল ৮৬ টাকা। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৪৭০ টাকা। ১০০ টাকা ছিল এক লিটার তেলের বোতল। এছাড়া খোলা পাম অয়েল ৭০ ও বোতলের পাম অয়েলের দাম ৭৫ টাকা করে ছিল।

গম্ভীর কণ্ঠে সাত সদস্যের পরিবারের অভিভাবক আহমেদ ইমতিয়াজ পান্নু ইত্তেহাদকে বলেন, ‘এক থেকে দেড় মাস ধরে বেড়েই চলছে তেলের দাম। এত দিন শুনেছি, করোনার কারণে আমদানি কমেছে, তাই দাম বেড়েছে। এখন তো আমদানি হচ্ছে, কিন্তু দাম তো কমছে না।’

‘তেল এমন একটা জিনিস, রান্নার জন্য প্রয়োজন হবেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে আমার পরিবারে ৪-৫ লিটার তেলের প্রয়োজন পড়ে। এখন ২০০ টাকা বেশি দিয়ে এ তেল কিনতে হচ্ছে।’

ইমতিয়াজ পান্নু আরও বলেন, ‘গিন্নিকে (স্ত্রী) বলি, তেল কমিয়ে দিতে। তিনি শোনেন না, উল্টো রাগ করেন। এখন বলুন, গত এক বছরে আমার ইনকাম কমেছে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে খরচ বেড়েছে আরও বেশি। আমি কেমনে চলি? সরকারের উচিত এগুলোর দিকে নজর দেওয়া।’