সৈয়দপুরে রেললাইন ঘেঁষে ফের বসছে পুরোনো কাপড়ের দোকান

সৈয়দপুরের নীলফামারী স্টেশন থেকে ৫০০ গজ দূরে রেললাইন ঘেঁষে পুরোনো কাপড়ের দোকান

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

শীতের আগমনে সৈয়দপুরে রেললাইন ঘেঁষে ফের বসছে পুরোনো কাপড়ের বাজার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দোকানে ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ। এতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। শহরের আতিয়ার কলোনির বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে রেললাইনের ওপর পুরোনো কাপড়ের দোকানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে অনেক মানুষ। ক্রেতাসমাগমও ঘটে ব্যাপক। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবসার পরিসর বাড়তে থাকে। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে আসছে সৈয়দপুরে। রেলচলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেললাইনের ওপর কাপড়ের এক দোকানদার বলেন, রেললাইনের ওপর দোকান সাজানো ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও অনেকে দোকান করছেন। তাই আমি করেছি। বাজারে একটি দোকানের প্রতি মাসের ভাড়া ১৫-২০ হাজার টাকা। এছাড়া এখানে চাঁদাও দিতে হয় বলে জানান তিনি।

রেললাইনের ওই স্থানে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকির কথা জানান লোকোমাস্টার (ট্রেন চালক) আসাদুজ্জামান খান সবুজ। তিনি জানান, সৈয়দপুর স্টেশনের ৫০০ গজ দূরে হোম সিগন্যালের কাছে রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ কাপড়ের বাজার। ট্রেন এখানে আসা মাত্রই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। প্রচন্ড ভিড়ের কারণে বাধ্য হয়ে ট্রেনের গতি কমাতে হয়। এতে কিছুটা হলেও সময় নষ্ট হয়ে যায়।

সৈয়দপুর রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার শওকত আলী বলেন, চালকেরা ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্নে করতে ওই স্থান থেকে দোকানপাট উচ্ছেদের কথা বলেছেন। ট্রেন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা ভেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান থেকে আমাদের কেউ চাঁদা তোলে না। যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বিশ্বাস জানান, রেললাইনের ওপর পুরোনো কাপড়ের বাজার বসায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। চাঁদা নিয়ে অবৈধ দোকান বসানোর ব্যবস্থার সাথে রেলওয়ে পুলিশ জড়িত নেই।