সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে অসংখ্যচর ॥ নৌযান চলাচলে ব্যাহত

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে হ্রাস পাওয়ায় নদী বক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। ফলে যমুনা নদীর বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার কাজিপুর নৌকা ঘাট, এনায়েতপুর নৌকা ঘাট, মেঘাই নৌকা ঘাট থেকে প্রতিদিন মেছড়া, বড়শিমুল , আপনা দীঘি, চৌহালি উপজেলা সদর, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুর নগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহড়াবাড়ী, রুপসার চরে প্রতিদিন অন্তত ৫ শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়ত করে। তবে শুস্ক মৌসুমের শুরু সাথে সাথেই নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে উঠায় নৌযান যাতায়াত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে করে ইঞ্জিনের তেল খচর ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রী ভাড়া ও মালামাল পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এসব রুটে অন্য কোন যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নৌযান চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া নদীর পানি কমে নৌকার ঘাট দূরে চলে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ বালুচর পায়ে হেটে নৌকায় চড়তে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মহিলা ও শিশু যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখনই যমুনার পানি যেভাবে কমছে তাতে অনেক এলাকায় নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে । এতে করে অনেক নৌ শ্রমিক বেকার হয়ে পরার আশংকা রয়েছে । এছাড়া যমুনা সার কারখানা থেকে নদী পথে সারসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন ও যাত্রী চলাচলে ভোগান্তিতে পরার আশংকা করছেন নৌমালিক শ্রমিকরা । এনায়েতপুর ঘাট থেকে চৌহালিতে যাতায়তকালি একজন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুর ইসলাম জানান তারা প্রতিদিন এই নৌ-পথে চৌহালির বিভিন্ন চরে যাতায়ত করে থাকেন

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নদীবক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর

বর্ষাকালে যাতায়ত সুবিধা হলেও শুষ্ক মৌসুমে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় । তিনি জানা অনেক চর আছে যেখানে নৌকা যায় না । সেখানে পায়ে হেটে যেতে হয়। ছেলেদের চেয়ে মেয়ে ও শিশুদের এই সময় কষ্টের সীমা থাকেনা । সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াখোলা চরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান এই সময় কৃষি পণ্য পরিবহন কষ্টের সীমা নেই । বাড়ির কাছে ঘাট না থাকায় পণ্য মাথায় করে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয় । স্থানীয় মতি সাহেবের ঘাটে আসা বেলুটিয়া চরের আব্দুল আলীম জানান ঠিকমত নৌকা না চলায় তাদের সকালে বাজার ধরা খুব কষ্ট হয় ।
জেলার মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া নৌ-ঘাটের ইজারাদার শামীম আহম্মেদ জানান, ১০ হাজার টাকায় মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ৩ কিলোমিটার দূরের নাটুয়া রপাড়া ঘাটে পৌঁছতে এখন ২২ কিলোমিটার পথ যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যবসায় অতিরিক্ত খরচ হলেও যাত্রী ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তারপরেও যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কমে গেছে। ফলে ঘাট ইজারা নিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে।