সিরাজগঞ্জে যমুনার পাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় উদ্যোগ নিলে হতে পার সৌন্দর্যের লীলাভূমি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ঘোচাতে শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর অনেক বিনোদনপ্রেমির অভ্যাস । যারা একটু সময় পেলেই কোনো উন্মুক্ত বিনোদন স্থানে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে স্নিগ্ধ বাতাসে প্রাণভরে নি:শ্বাস নিতে চায় । তাইতো প্রতিদিনই প্রকৃতি কন্যা সিরাজগঞ্জে যমুনার পাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় । যমুনার নদী বেষ্টিত জেলা শহর সিরাজগঞ্জ । এক সময় যমুনা এ জনপদের মানুষের কাছে ছিল অভিশাপ। সেই অভিশপ্ত প্রকৃতি কন্যা যমুনা এখন বিনোদনপ্রেমী মানুষের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। যমুনার পাড়ে শহর রক্ষা বাধ হার্ডপয়েন্ট ও চারটি ক্রসবার এলাকা এখন অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও হার্ডপয়েন্ট এলাকায় শহীদ শেখ রাসেল শিশুপার্ক এবং অদূরেই নবনির্মিত মুজিব দর্শন ভাস্কার্য উন্মুক্ত এই বিনোদনকেন্দ্রের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই প্রতিদিনই অবসর সময়ে সিরাজগঞ্জের মানুষের বিকালের গন্তব্যস্থল হয় যমুনার পাড়। প্রতিদিনই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে যমুনার বুকের চারটি ক্রসবার ও শহর রক্ষা বাঁধ। তবে ছুটির দিন বা কোন উৎসবে এই মাত্রা আরো বেড়ে যায় । স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে বেড়াতে আশা আব্দুর রহমান। তিনি জানান পরিবারের সদস্যদের নির্মল বিনোদনের স্বাদ পাওয়াতেই এখানে নিয়ে এসেছি। এরপর শিশুদের নিয়ে রাসেল পার্কে যাবেন বলে জানান তিনি।

বেসরকারি চাকরিজীবি স্বপন তার বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসেন ক্রসবার-৩ এলাকায় । তিনি বলেন, সারা দিন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই । তাই সন্ধ্যায় বা ছুটির দিনে প্রকৃতির স্বাদ সিন্ধ বাতাস পেতেই এখানে ছুটে আসি।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা আবিদ হোসেন বলেন, সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ততার পর জীবনটা চায় একটু বিনোদন ।তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটু সময় পেলেই মনের প্রশান্তির জন্য ছুটে আসি যমুনা পারে । স্পট গুলি এখন শ্রমিক থেকে শুরু করে সর্ব শ্রেণির দর্শনার্থীর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । এখানে বেড়াতে আসা বিনোদন প্রেমিদের দাবী যদি এই স্পট গুলিতে সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তাহলে এই গুলি একটি লাভজনক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে ।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানান যায় , যমুনার ভাঙ্গন ঠেকাতে ২০০০ সালে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়। বাধটির উত্তরের অংশে নির্মাণ করা হয় একটি বৃত্তাকার হার্ডপয়েন্ট। এই বাধের জেলখানা ঘাটসংলগ্ন এলাকায় সিরাজগঞ্জ পৌরসভার তত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য শহীদ শেখ রাসেল শিশুপার্ক। তার উত্তর পাশে গত ৭ মার্চ স্থাপন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বই ভাস্কার্য মুজিব দর্শন।
এছাড়াও ২০১৭ সালে পানির গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষন বাঁধ থেকে আড়াআড়িভাবে চারটি পয়েন্টে চারটি ক্রসবার নির্মাণ করা হয়। এ ক্রসবারগুলোর দৈর্ঘ্য এক থেকে পৌনে ২ কিলোমিটারের মতো। যেটা মূল বাঁঁধ থেকে লম্বালম্বিভাবে যমুনার মাঝখানে গিয়ে শেষ হয়ছে।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনার ভাঙ্গন থেকে সিরাজগঞ্জকে রক্ষার জন্য নির্মিত হওয়া এসব বাধগুলোকে পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাউবোর অর্থায়নে বাধের উপরে কয়েক মিটার পরপর নির্মাণ করা হয়েছে বসার আসন। এছাড়াও ক্রসবার বাধগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে।

পাউবোর ( পানি উন্নয়ন বোর্ড) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার জন্য নির্মিত হার্ডপয়েন্ট ও ৩ টি ক্রসবারের সৌন্দর্য এবং দর্শনার্তীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে । হার্ড পয়েন্ট ও ক্রসবার গুলিতে প্রতিদিন দর্শনার্তীদের ভিড় বাড়ছে । বিশেষ করে ছুটিন দিন ও বিভিন্ন উৎসবের দিনে এই ভীড় কয়েক গুন বেশী হয় । এই সব দর্শনার্তীদের প্রকৃতিক কাজে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয় । সবদিক বিবেচনা করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির- বিন- আনোয়ার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহী । তাঁর মতামতের ভিত্তিতেই প্রকলাপটি বাস্তবায়িত হবে । এজন্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ব্যয় হবে বলে বাজেট করা হয়েছে । প্রয়োজনে ব্যয় বাড়তে পারে । তিনি আরো বলেন ৮/১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে । এজন্য প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে । পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ক্রস বাঁধ ভালো মানের রেস্টুরেন্ট থাকবে, প্রতিটিতে ৮/৯ টিকরে ওয়াশ রুম, প্রবেশদ্বার থাকবে। দর্শনার্থীকে ভিতরে প্রবেশ করতে টিকেট কাটতে হবে । যানবাহন পাকিং এর জন্য ব্যবস্থা থাকবে । এজন্য নিদৃষ্ট হারে ভাড়া দিতে হবে ।