সারাদেশ ঘুরছেন মহাপরিচালক, অনুপ্রাণিত হচ্ছেন নার্সিং কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিনিধি

করোনার এই কঠিন সময়ে ভয়কে জয় করে নার্সিং কর্মকর্তাদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিয়ে সারাদেশ ঘুরছেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার।

বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পরিদর্শন করছেন নার্সিং কর্মকর্তাদের কার্যক্রম। শুনছেন তাদের সমস্যার কথা, আশ্বাস দিচ্ছেন সমাধানের। এতে মাঠ পর্যায়ে নার্সিং কর্মকর্তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

শনিবার সকালে সিলেট নার্সিং কলেজে ৪ সপ্তাহব্যাপী ইনটেনসিভ কেয়ার প্রশিক্ষণ কোর্স ও দুই সপ্তাহব্যাপী ইনফেকশন কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন কোর্সের প্রশিক্ষণ পরিদর্শন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালে সিদ্দিকা আক্তার প্রশিক্ষণার্থীদের গ্রুপ প্রেজেন্টেশন দেখেন ও প্রশংসা করেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিকা আক্তার বলেছেন, করোনাকালীন সময়ে সারাদেশের নার্সিং কর্মকর্তারা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের সেবা কার্যক্রম মানুষের মধ্যে আরো বেশি আস্থা তৈরি করেছে। ফলে এ পেশার সাথে জড়িতদের দায়িত্বও আরো বেড়ে গেছে। মানুষের এই প্রত্যাশা পূরণে দেশের নার্সিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এজন্য চলমান আইসিইউ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরো ৬ মাস বৃদ্ধি করে অধিক সংখ্যক নার্সিং কর্মকর্তাদের এই সুযোগ দেয়া হবে।

করোনাকালে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করায় নার্সদের ‘এনজেল’ আখ্যা দিয়ে সিদ্দিকা আক্তার আরও বলেন, পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। আগে যেসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রিয়ভাবে ঢাকায় হতো দেশের নার্সিং কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে এখন থেকে সেগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে। এতে নার্সিং কর্মকর্তারা সহজে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়কালে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেশাগত নানা সমস্যার কথা মনযোগসহকারে শুনেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন। এসময় মহাপরিচালক বলেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রনোদনার জন্য যে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী সবাইকে প্রনোদনা দেয়া হবে। একইভাবে সারাদেশের হাসপাতালগুলো থেকে যে তালিকা পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী প্রনোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই তালিকা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় হয়ে বর্তমানে অর্থমঞ্জুরির জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমান আছে।

সিদ্দিকা আক্তার আরও বলেন, ইতোমধ্যে যেসব নার্সিং কর্মকর্তা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন তারা তাদের বকেয়া বিল চলতি মাসের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। আর যারা এখনো সিলেকশন গ্রেড পাননি তাদেরকেও শিগগিরই সিলেকশন গ্রেড প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করলে ছোটখাটো অনেক সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব। তাই স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। স্থানীয়ভাবে কোন সমস্যার সমাধান না হলে নার্সিং অধিদপ্তর তা সমাধান করবে।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার পক্ষ থেকে সিলেটে বিভাগীয় ধারাবাহিক শিক্ষা কেন্দ্র (ডিভিশনাল কন্টিনিউইং এডুকেশন), নার্সিংয়ের শূণ্যপদ পূরণ, পুরুষ নার্সদের ডরমেটরি স্থাপন ও চলমান আইসিইউ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। জবাবে মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ধারাবাহিক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা প্রেরণের কথা বলেন। প্রস্তাবনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া শূণ্যপদ পূরণ, ডরমেটরি স্থাপন ও প্রশিক্ষণের মেয়দ বৃদ্ধির ব্যাপারেও তিনি আশ্বস্থ করেন। গত শুক্রবার (১১ জুন) বিপিএসসি লিখিত পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছে তাদের মধ্য থেকে যারা কৃতকার্য হবে তাদেরকে অতিদ্রুত নিয়োগের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান সিদ্দিকা আক্তার।