শ্রীবরদী সীমান্তে বন্য হাতির মৃত্যু

শেরপুরে রানীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা গ্রামে মৃত বন্য হাতি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার বলেন, হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তাড়ে জড়িয়ে হাতিটির মৃত্যু হতে পারে

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে সীমান্তবর্তী মালাকোচা গ্রামে একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত আনুমানিক রাত ৩টার দিকে রানীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা গ্রামের বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়ি টিলায় ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে বন বিভাগের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। বৈদ্যুতিক তাড়ে জড়িয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খরব পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন যাবত বন্য হাতির দল শ্রীবরদী সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থান করছে। পাহাড়ে খাদ্য সংকট থাকায় হাতির দল সন্ধ্যা হলে লোকালয়ে নেমে কৃষকদের পাকা ধান, সবজি বাগানসহ নানা ফসলাদি নষ্ট করছে। হাতির আক্রমণ থেকে ফসলাদি রক্ষা করতে এলাকাবাসী সন্ধ্যার পর থেকে অবৈধভাবে জিআই তারের ঘের দিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়। মালাকোচা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আমির উদ্দিন (৪৫) পাহাড়ি টিলায় সংরক্ষিত বনের জায়গায় সবজি বাগান করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে একটি হাতির দল খাদ্যের সন্ধানে ওই বাগানে আসে। এসময় বিদ্যুতের তাড়ে জড়িয়ে ২০-২৫ বছর বয়সী ১৫ ফুট লম্বা একটি পুরুষ জাতের হাতির মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলেই গর্ত করে মৃত হাতিটি মাটি চাপা দেওয়া হয়।

বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, সংরক্ষিত বনে একশ্রেণীর লোক অবৈধভাবে চাষাবাদ করে। পাহাড়ে হাতির দল খাদ্যের সন্ধানে সেখানে এসে হানা দেয়। এমনকি হাতি সময়ে সময়ে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের বাড়িঘরও ভাঙচুর করে। এজন্য স্থানীয় কিছুলোক বাড়িঘর ও ফসলাদি রক্ষার করার জন্য অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে বৈদ্যুতিক তাড়ে জড়িয়েই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের ভেটেনারি সার্জন ডা: মেহেদি হাসান বলেন, মৃত হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারন জানা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার বলেন, হাতি মারা যাওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রায় ২০ দিন আগে বন্য হাতির দল খাদ্যের সন্ধানে ভারত থেকে শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী পাহাড়ে এসেছে। এলাকার লোকজন জান-মাল রক্ষার্থে বিভিন্নভাবে কাজ করছে। হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হাতিটির মৃত্যু হতে পারে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে তা দুঃখজনক। পাহাড়গুলো হাতির বিচরণ ভূমি। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যেন হাতির কোন ক্ষতি না হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষন কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে হাতির মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সন্দেহজনকভাবে তড়িতাহত হয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনাটি বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের ডিজি জহির উদ্দিন আকনকে অবহিত করা হয়েছে।