শ্যামনগরে পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঁেঙ্গ বুড়িগোয়ালিনীর ৪ গ্রাম প্লাবিত ঝুঁকিপূর্ণ ৪ ইউনিয়নে আরো ১০ জায়গায়

শ্যামনগরে পাউবো বাঁধ ভেঙ্গে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৪ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে খোলপেটুয়া নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি নামকস্থানে প্রায় ২ শতাধিক ফুট পাউবো’র বেড়িবাঁধ নদীতে ধসে পড়ে। এ সময় জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবল গতিতে প্রবেশ করে এবং ৪ গ্রাম প্লাবিত ও শতাধিক মৎস্য ঘের তলিয়ে পানিতে ভেসে যায়। এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, গভীর রাতে নদীতে প্রবল জোয়ারের চাপে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঁঙ্গে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করে।এসময় ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, পোড়াকাটলা ও মাদিয়া গ্রাম প্লাবিত হয়। তাছাড়া শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভোর হতে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভাঙ্গন মেরামতের কাজ শুরু হলেও পানি আটকানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন,দাতিনাখালি গ্রামের আজিজ ম্যানেজারের বাড়ির সামনে ও ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে, সার্বিক অবস্থা ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাউবো কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বার বার নদী ভেঙ্গে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে।

কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবউর রউফ জানান, তার ইউনিয়নে ঝাপালি ও ঘোলা গ্রামের আশ্রায়ন প্রকল্পের পাশে দুটি জায়গায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. আতাউর রহমান জানান, গত বুধবার সকাল ৯ টার দিকে চাউলখোলা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করার খরব পেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে মাটি দিয়ে পানির প্রবেশ পদ বন্দ করা হয়। তবে তার ইউনিয়নে চাউলখোলা,খুটিকাটা,কামালকাটি ও চন্ডিপুর চারপি স্থান অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাউবো’র বেড়িবাঁধ। নদীতে প্রবল জোয়ারে পানির চাপে যে কোন সময়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশংকায় এলাকার মানুষ আতংকিত। গাবুরার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাসুদুল আলম বলেন, গাবুরায় জেলেখালি, গাগড়ামারি, ও নাপিতখালি এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গন কবলিত জায়গা গুলি দ্রুত সংষ্কার না করা হলে ইউনিয়নটি বিপর্যয় ঘটতে পারে।
গভীর রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করার খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এম পি এস এম জগলুল হায়দার ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনান্তে জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বাঁধ বাধার ব্যবস্থ গ্রহণ করেন। কিন্তু খোলপেটুয়া নদীতে জোয়ারের পানির চাপে ভাঙ্গন কবলিত জায়গায় বাঁধ বাধা সম্ভব হয়নি। তবে এমপি জগলুল হায়দার বলেন, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ী, পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নে প্রায় ১০ টি ভাঙ্গন কবলিত স্থান গুলো জরুরিভিত্তিতে সংষ্কার করা হবে বলে জানান।
শ্যামনগর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) রাশেদুর রহমান ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিক করে বলেন, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্স-এন) আবুল খায়ের ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙ্গন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।