শিবগঞ্জে পদ্মায় তীব্র ভাঙন কৃষিজমি বাড়িঘর বিলীন ১৩০ পরিবার হুমকিতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবঞ্জে পাঁকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষীপুর গ্রামে ভাঙন

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বাড়িঘর ও কৃষিজমি। দুই মাসের ব্যবধানে পাঁকা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরলক্ষীপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ৩০০ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরো প্রায় ১৩০টি পরিবার চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিলীন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার বিঘা আম বাগান, বাঁশ বাগান ও ফসলিজমি। মসজিদ ও গোরস্থান বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার অনেক মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিস্ব হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার দিনব্যাপী সরজমিনে এলাকায় গিয়ে চরলক্ষীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামের সহিমুদ্দিন মড়ল (৯২) জানান, এবার নিয়ে আমার জীবনে ৫ বার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছি। এবার শেষবারের মত ভাঙনের কবলে বোগলাউড়ি গ্রামের (বর্তমানে নতুন কানছিঁড়া নামে পরিচিত) নজরুল ইসলাম হাজির বাড়ির উঠানে ছোট একখান খুঁপড়ি তুলে বাস করছি। এর আগে বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে শেষে চরলক্ষীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামে কয়েক কাঠা জমি বর্গা নিয়ে কোন রকমে দিনাদিপাত করছিলাম। সেটাও গত সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙ্গনকবলিত এলাকার শতধিক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ফলে নৌকাযোগে কেউ বোগড়াউড়ি ঘাটএলাকায় অন্যের জমিতে, কেউ দূর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়ীবাধের দুইদিকে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নীচে বাস করছেন। চরলক্ষীপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন (৬০), আলাউদ্দিন, মিঠু, জিয়ারুল ইসলাম, পারুল ইসলাম, সুমন, শেফালী বেগম, জোসনা বেগম, সাদিকুল ইসলাম, আতাবুর রহমানসহ প্রায় ৫০-৬০ জন নারী পুরুষ জানান, গত দেড় মাস থেকেই চরলক্ষীপুর গ্রামের জ্যাট পাড়া, ক্যাইঠাপাড়া, মড়ল পাড়া, ডাক্তার পাড়া, বহরাপাড়া, কলিমুদ্দিন বিশ্বাসের পাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙন চলছে। তারমধ্যে কয়েক দিনের ভাঙন খুব জোরে শুরু হয়েছে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে বোগলাউড়ি ঘাটের দুই পাড় ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়ীবাঁধের দুই পাশে অস্থায়ীভাবে মাথা গোজার ঠাঁই নেয়ার চেষ্টা করছি। চরলক্ষীপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বারী জানান, বর্তমানে চরলক্ষীপুর গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ৩০০ পরিবারের মধ্যে ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো ১৩০টি পরিবার হুমকীর মুখে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে সাথে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
চঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, চরলক্ষীপুর এলাকার ভাঙন সম্পর্কে জেনেছি। দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।