লুটপাটে জড়িত ১৪ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে পুলিশে দিলো আ.লীগ

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশালে টপটেনের শো-রুমে লুটপাট ও হামলাকারীরা বেশিরভাগই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

হামলা ও লটপাটের ঘটনায় ছাত্রলীগ ছাড়াও বিব্রত নগর আওয়ামী লীগও। দলের পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িত ১৪ আসামিকে পুলিশে দেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৎপরতায় সন্তোষ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতির লোক পরিচয়ে নগরের টপটেনের শো রুমে হামলার ঘটনাটি গেলো রবিবাবের। স্থানীয়রা বলছেন, পাঞ্জাবী পরিহিত হামলাকারী এই যুবক মারুফ হাসান টিটু জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের পাশপাশি  সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী। মামলায় গ্রেপ্তার এক নম্বর আসামি রাকিবও সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন ও লাইসেন্স শাখার কর্মচারী বলে জানান স্থানীয় অনেকেই।

বাকিরা বিভিন্নভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ঘটনার পর স্থানীয় জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে হামলাকারীদের সখ্যতার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব হোসেন জানান, নেতাকর্মীদের অনেকের সাথেই ছবি আছে, কিন্তু এর অর্থ এমন না যে, কারও সাথে ছবি থাকলেই তার অপরাধের দায়ভার নিতে হবে বা সংগঠন তার দায়ভার নেবে।

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই অনেক কৌশল নেয়া হয়েছে। সবশেষ যে এই নোংরা কৌশল গ্রহণ করে আমাকে হেয় করা হচ্ছে।’

নেতাকর্মীদের পুলিশে দেয়ার বিষয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘মামলার এজাহারে যাদের নাম এসেছে আমরা তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। এদের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের বিচার হবে আর যারা নির্দোষ তারা খালাস পাবে।

ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে, মামলায় ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকা ১৪ জনকে পুলিশে সোপর্দ করার কথা জানান বরিশাল সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন টপটেন কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলছে, ২৪ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ১৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  কি কারণে সংঘবদ্ধ লুটপাট আর হামলা তার রহস্য উদঘাটনের দাবি ছাত্রলীগেরও।