লায়নদের অভিনন্দন জানালেন বঙ্গবন্ধু

১৯৭৩ সালের ২৫ জুনের পত্রিকা

অরুণজ্যোতি

বাংলাদেশ ‘লায়ন’দের জন্য সেবামূলক কাজে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল-এর নবম সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেরিত এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন। বিশ্বের দুঃখি মানুষের সেবায় তারা নিবেদিত। তারা বাংলাদেশের শুধু গরিব ও দুঃস্থদের সাহায্যই করছে না, তারা বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ গড়ে তুলছে। তাদের সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন বঙ্গবন্ধু।

জাতিসংঘের সদস্য থাকার অধিকার নেই পিন্ডির

১৯৭৩ সালের এদিন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পাকিস্তানি আটক বাঙালিরা যাতে দেশে ফিরে আসতে পারে তার সপক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত সৃষ্টির জন্য ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অসংখ্য সদস্য রয়েছেন যারা মানবতার সেবায় নিবেদিত। মানবিক সমস্যা নিয়ে তারা আন্তর্জাতিকভাবে জনমত সৃষ্টি করতে পারেন।

১৯৭৩ সালের ২৫ জুনের পত্রিকা

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান অন্যায়ভাবে নিরপরাধ বাঙালিদের আটকে রেখেছে। তাদের ওপর পাকিস্তান সরকার নির্মম অত্যাচার করছে। সমস্যাটি মানবিক। কাজেই তাদের দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে বিশ্বজনমত গড়তে এই সংগঠন সাহায্য করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের আমরা দেশে ফিরিয়ে আনবো। কোনও দেশের নাগরিককে আটকে রাখা ও দেশে ফিরে আসতে না দেওয়া জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। কোনও সদস্য রাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করলে তার সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত।

ইন্দিরা ও ট্রুডোর আশাবাদ

উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সকল অমীমাংসিত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের পক্ষে ঐকমত্য প্রকাশ করে ভারত ও কানাডা। চার দিনব্যাপী কানাডা সফর শেষে অটোয়া ও নয়াদিল্লি থেকে যুগপৎভাবে প্রকাশিত এক যুক্ত ইসতেহারে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

শ্রীমতি গান্ধী ও প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো (জাস্টিন ট্রুডোর বাবা) এই ঐকমত্য পোষণ করেন। ইসতেহারের দুই প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ অচিরেই জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করবে। কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করায় তারা অভিনন্দনও জানান।

উপমহাদেশের বর্তমান অচলাবস্থা ভাঙতে ভারত যে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, পিয়েরে ট্রুডো সেটার প্রশংসা করেন। ভ্যানকুভারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভাষণদানকালে ইন্দিরা বলেন, উপমহাদেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা, দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সকল অমীমাংসিত সমস্যার নিষ্পত্তি এবং উপমহাদেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ভারত একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু পাকিস্তান তাতে সাড়া দেয়নি।

১৯৭৩ সালের ২৫ জুনের পত্রিকা

 

যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি চেয়ে স্লোগান

পাকিস্তানি বহিরাগতরা শ্রীমতি গান্ধীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা দাবি করে, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের উত্তরে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, পাকিস্তানের বিক্ষোভকারীরা জানে না যে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিদের আটক করে রাখতে চায় না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো এ অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছেন এবং পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে নিতে তিনি আগ্রহী নন। শ্রীমতি গান্ধী বলেন, বাংলাদেশের সম্মতি ছাড়া পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিতে পারে না ভারত।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রস্তাব মেনে নিলে এতোদিনে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

রংপুর ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও জামালপুর, পাবনা সদর, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ছিল। এদিকে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে তিস্তার পানি বাড়ছে বলা হয়। আকাশবাণীর খবরে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার উজানে তিস্তার পানি বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।