রামগতিতে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ হুমকিতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 গত সপ্তাহে মেঘনায় বিলীন হয়ে যায় উপজেলার চর বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন এই দ্বিতল ভবনটি

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি          

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে, বসতবাড়ি, ফসলিজমি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, বাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের বড়খেরী ইউনিয়নের কোরেশবাড়ি এলাকায় বিবিরহাট-রামগতিরহাট সড়কের অংশ মেঘনার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। প্রতি বর্ষা মওসুমের শুরুতে দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। এই ভাঙনের কবলে পড়ে গত সপ্তাহে মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার চর বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাত কক্ষ বিশিষ্ট সদ্য নির্মিত নতুন একটি দ্বিতল ভবন। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর করতে হয়। গত বছর চরগেছপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়ায় অন্যত্র স্থানান্তর করা হলেও এখন আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের দুর্গম চরে ১৯৯৩ সালে চরবালুয়া বেসরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি তৃতীয় পেইজ (পিইডিপি-৩) এর আওতায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ৭ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন এই দ্বিতল ভবনটি নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে মেঘনার প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতে ওই চর এলাকার একমাত্র বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে প্রায় দুই শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে হুমকিতে আছে চররমিজ দক্ষিণ-পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মেঘনা নদী এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে এসে পড়েছে। বিলীন হওয়া চরবালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: সেলিম জানান, মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি চলে আসলে চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে জনতা বাজার এলাকায় বালুরচর উচ্চবিদ্যালয়ে রাখা হয়। এরই মধ্যে সদ্য নির্মিত নতুন দ্বিতল ভবনটি মেঘনায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে এবং অন্য দ্বিতল ভবনটিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের ১৯১ জন ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আহসান জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্তক্রমে স্থানীয় একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আপাতত চালিয়ে নেয়া হবে। প্রাপ্যতা বিবেচনায় সুবিধাজনক স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা ঠেকাতে এবং বিদ্যালয়টি রক্ষায় গত বর্ষা মৌসুমে জিও টিউব ব্যাগে স্পার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর হঠাত্ ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভাঙন ঠেকাতে আপদকালীন বরাদ্দে উপজেলার ভাঙন কবলিত পাচটি স্পটে জিও টিউব ব্যাগে স্পার নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।