রামগতিতে নোনা পানির জোয়ারে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা

রামগতি(লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি

মেঘনা নদীতে নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও নিম্নচরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে এসব এলাকায় আবাদকৃত মৌসুমের প্রধান ফসল সয়াবিন, মরিচসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ফসলের মাঠে নোনা পানি ডুকে যাওয়ায় নষ্ট হতে যাচ্ছে ক্ষেতের উঠতি সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, ডাল জাতীয় ফসলসহ মাঠের সব রবিশস্য। দমকা ও ঝড়োহাওয়ার প্রভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার বিকেলে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সব পুঁজি হারিয়ে বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা করছেন ওই সব এলাকার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনসহ রবি শস্যের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন, ২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম, ৭শ ৯০ হেক্টর জমিতে মুগডাল, ৪শ’ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৪শ’ হেক্টর জমিতে ফেলনডাল, একশ’ ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ২ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে ঢেঁড়স, সরিষা, সূর্যমুখী, বোরো, রসুন, পেঁয়াজ, গম, মসুর ডালসহ অন্যান্য রবি শস্যের আবাদ করা হয়েছে।
এর মধ্যে বেড়িবাঁধ না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর, সোনালীগ্রাম, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, বাংলাবাজার, সবুজগ্রাম, আসলপাড়া, পূর্ব আলেকজান্ডার, চর আলগী ইউনিয়নের চরটগবী, গাবতলী, দক্ষিণ চরআলগী, চররমিজ ইউনিয়নের চর গোসাই, চর রমিজ, বড়খেরি, চর গাজী এবং চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়নের চর গজারিয়া, তেলিরচর, চর সেবাজ এলাকার নিম্নাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির রবি ফসল নোনা পানির জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।
তলিরচর, গজারিয়া ও আবদুল্লারচরের কবির, মিলাদ, সহিজল মাঝিসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গত দুই দিন ধরে মেঘনা নদীতে নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে পুরো চর এলাকা ডুবে যায়। এসময় সয়াবিন, চিনাবাদাম, মরিচ, মুগ, ভুট্টা, ফেলনডালসহ সব ধরনের রবি ফসল প্লাবিত হয়। এতে লবণাক্ততার কারণে এসব জমির ফসল লালচে হয়ে মরে যেতে পারে। বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে প্রতি বছর নোনা পানির জোয়ারের কবলে পড়ে ফসলহানির শিকার হচ্ছেন বলে ওইসব এলাকার কৃষকরা দাবি করছেন।
চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বেড়িবাঁধ না থাকায় নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কয়েকশ একর রবিফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানি বসতঘরে ঢুকে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
চরআব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন মঞ্জুর জানান, তার ইউনিয়নটি চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত হওয়ায় এবং বেড়িবাঁধ না থাকায় পুরো চর এলাকা অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। এসময় গজারিয়া, তেলিরচর, মাজেরচর, আবদুল্লাররের প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জমির রবি শস্য নোনা পানিতে তলিয়ে যায়। লবণাক্ততার কারণে এসব জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতির হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, মেঘনা নদীতে নোনা পানির অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকার রবি ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই সব এলাকায় আবাদকৃত সয়াবিন ও মরিচসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। তবে ৩-৪ দিন পর কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।