রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির ‘উন্নয়ন প্রকল্পটি’ উদ্বোধন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী

রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে সম্প্রসারিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ক্যাফেটারিয়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত সম্প্রসারিত ‘উন্নয়ন প্রকল্পটি’ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে দুদিনের সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নান্দনিক কমপ্লেক্সসহ প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন। এখনো এ সংক্রান্ত সরকারি বার্তা না পৌঁছালেও আগামী ২৬/২৭ মার্চ প্রকল্পটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহিত প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের মধ্যে সুসজ্জিত লাইটিং ও সাউন্ড সিষ্টেম সম্বলিত সুবিশাল উন্মুক্ত মঞ্চ, আধুনিক ক্যাফেটারিয়া, লাইব্রেরী কাম ডকুমেন্টেশন সেন্টার, দ্বিতল ভবনবিশিষ্ট অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ, সুপরিসর নতুন গেট, বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র, অভ্যন্তরীন ফুটপাত উন্নয়ন,বিশুদ্ধ পানির রিজার্ভার, আনসার শেড ও গন-শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। দ্বিতল ভবনের রেষ্ট হাউজের দ্বোতলায় অত্যাধুনিক ৭টি কক্ষ এবং নীচতলায় সভাকক্ষ, ডাইনিং, কিচেন ও রিসিপশন রুম। লাইব্রেরীতে গবেষক ও পর্যটকদের জন্য থাকবে বই পড়ার সুযোগ-সুবিধাসহ তথ্য সেবা। এছাড়া ক্যাফেটারিয়ায় পাঁচ শতাধিক অতিথি-পর্যকটরা একযোগে পাবেন আপ্যায়ন সুবিধা। ক্যাফেটারিয়ার সামনে ছাতার আদলে নির্মিত ছাউনীর নীচে দর্শক গ্যালারী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কুঠিবাড়ির সৌন্দর্য-পরিধি বেড়েছে বহুলাংশে। কুঠিবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে বেদখল ছয় একর সম্পত্তি উচ্চ আদালতের নির্দেশে পুনরুদ্ধার ও ক্রয়কৃত জায়গার উপর কুষ্টিয়াস্থ গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ভারত সরকারের অর্থায়নে ১৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পরটির নির্মাণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরকালে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি ভারত সরকারের অর্থায়ানে কবির স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ির সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও পর্যটক-দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধায় আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে ইচ্ছা পোষণ করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পের অনুকুলে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিশ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে সে দেশের সরকার অর্থ বরাদ্দ দেয়। এরআগে ২০১৭ সালে ৯ মার্চ কুঠিবাড়ির বকুলতলায় ভারতের পক্ষে তৎকালীন হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তৎকালীন সচিব কাজী শফিকুল আযম এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পটির উপর ডকুমেন্টরী ভিডিও চিত্রধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৬/২৭ মার্চ উদ্বোধনী দিনে ওই ভিডিও অনলাইনে উপস্থানের মাধ্যমে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানান।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা এখনো তার কাছে আসেনি।