মিরসরাইয়ের পাহাড়ে চাষ হচ্ছে গোলমরিচ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে করেরহাট ইউনিয়নে গোলমরিচের ক্ষেত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পাহাড়বেষ্টিত মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দার প্রধান পেশা ছিলো কাঠ কাটা, বাঁশ কাটা। যার ফলে উজাড় হয়ে যেতো বনাঞ্চল। পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর জীবনে গত তিন বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে মূল্যবান মসল্লা গোল মরিচ চাষের ফলে। গত বছর ২০টি প্লট থেকে ৬শ টাকা কেজি ধরে প্রায় ৭০ কেজি গোল মরিচ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এবছর ফলন বেশী হওয়ায় সাড়ে ৩ হাজার কেজি শুকনো গোল মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামে ১১টি প্লট ও ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে ৯টি প্লটে বাণিজ্যিকভাবে গোল মরিচ চাষ শুরু করা হয়। ২০টি প্লটে এখন গোল মরিচের ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে গলার পুতি মালার মতো ফল ধরেছে। স্থানীয় গোল মরিচ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে গোল মরিচ চাষে সফল হলেও তারা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। করেরহাট ইউনিয়ন ও দাঁতমারা ইউনিয়ন দু’টির বেশীর ভাগ অংশ পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির লেয়ার শুকিয়ে যায়। কৃষক রুহুল আমিন বলেন, কয়লা গ্রামের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত। সমতল জমিতে ধান চাষ ছাড়া পাহাড়ে কোন ফসল হতো না। আমি গোল মরিচ চাষের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ২৫ শতক জমিতে চাষ করি। গোল মরিচের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে আধা, হলুদ, লাল শাকও মূলার শাকও চাষাবাদ করি। গোল মরিচের চারা রোপনের ২ বছর পর ফল আসে। আষাড়-জৈষ্ঠ্য মাসে ফুল ধরে, মাঘ মাসে ফল পাকে। আমি গত বছর ৫’শ টাকা কেজি ধরে ১০ কেজি শুকনো গোল মরিচ বিক্রি করেছি। এটি ঝাঁজ বেশী হওয়ায় স্থানীয় মসল্লার দোকানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্যান্য ফসলের থেকে এটির রোগবালাই কম। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে গোল মরিচ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

গোল মরিচ চাষী শ্রীকান্ত ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে গোল মরিচের ফলন বেশী হলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে গাছ মরে যায়। এজন্য এখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে গোল মরিচ চাষ আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এছাড়া গোল মরিচ পাকার পর তা সিদ্ধ করে পুনরায় শুকানোর প্রয়োজন হয়। গোল মরিচ শুকানেরা জন্য একটি বয়লার মেশিন স্থাপন করা হলে চাষীদের অনেক উপকার হবে। তিনি গত বছর ৬’শ টাকা করে ৫ কেজি শুকনো গোল মরিচ বিক্রি করেছেন বলে জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে গোল মরিচ চাষ ভালো হয়। বিচ্ছিন্নভাবে পঞ্চগড়, শ্রীমঙ্গলে গোল মরিচ চাষ করা হলেও বাণিজ্যিক ভাবে মিরসরাইতে প্রথম গোল মরিচ চাষ করা হচ্ছে। ইতমধ্যে গোল মরিচের ফলনও ভালো হয়েছে। গোল মরিচ চাষ করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এসেছে স্থানীয় কৃষকদের। গোল মরিচ চাষকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া এবং কৃষকদের জন্য বয়লার মেশিন স্থাপন ও গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।