মশা নিধনে গিয়ে খালের জায়গা উদ্ধার করলেন মেয়র আতিকুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি

কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় দিনের মতো অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অন্যদিনগুলোর মতো এ অভিযান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বুধবার (১০ মার্চ) ডিএনসিসি মেয়র মোহাম্মদপুর রিং রোড, শিয়া মসজিদ এলাকা, রামচন্দ্রপুর খাল এবং আশপাশের এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিদর্শন করেন।

মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্দেশে রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন অভিযানে অংশ নেওয়া টিমের অন্য সদস্যরাও। শ্যামলী সিনেমা হলের বিপরীত দিকের গলি ধরে কিছুদূর এগোতেই দেখা গেল একটি রাস্তার মোড়ে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এসময় মেয়র আতিক গাড়ি থেকে নেমে অবৈধ দোকানগুলো পর্যবেক্ষণ করে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

সেখান থেকে আগারগাঁওয়ের দিকে কিছুদূর এগোলেই চোখে পড়ে কল্যাণপুর ‘চ’ খাল। খালের দুই পাশের হাঁটার পথে, এমনকি খালের উপরেও অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী দোকান। মেয়রের নির্দেশে এরকম কয়েকটি দোকান সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় মশা নিধন অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে খালের জায়গা উদ্ধারে অংশ নেন ডিএনসিসি মেয়র।

খাল ধরে আগারগাঁও ৬০ ফুট রাস্তার সমাজকল্যাণ মোড়ের দিকে কিছুদূর এগোতেই একটি জায়গায় খালের পাশে হাঁটার পথ আটকে যায়। ৪০ ফুট খাল হয়ে যায় মাত্র ২ ফুট। বাকি ৩৮ ফুট খাল এবং ১৬ ফুট হাঁটার পথ মাটি দিয়ে ভরাট করে টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ অবস্থা দেখে থমকে যান মেয়রসহ অন্যরা।

জায়গাটি আনুমানিক ১৫ কাঠার। মেয়রের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, খাল ও হাঁটার রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে টিনের বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছে। মেয়রের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে টিনের বেড়া অপসারণ করা হয়। বেড়া অপসারণের পর ভেতরে দেখা যায়, জায়গাটিতে শাকসবজির আবাদ হয়েছে এবং ছোট আরও তিনটি টিনের ঘর রয়েছে। আতিকুল ইসলামের নির্দেশে তাৎক্ষণিক সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল একটি মাটি খোঁড়ার যন্ত্র (এক্সকেভেটর)। আতিকুল ইসলাম এ যন্ত্রটি নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত দেন। তারপর শুরু হয় অবৈধভাবে দখল করা খাল ও হাঁটার জায়গা উদ্ধারে অভিযান। অভিযানে প্রায় ১০ ফুট খাল খননও করা হয়। বৃহস্পতিবারও উদ্ধার করা খাল খননের কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এটা খালের জায়গা। জনৈক বেলায়েত এই জায়গাটি মাটি ভরাট করে দখল করেছে। এর ফলে এখানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, কোমর পানি হয়। কারণ খাল দিয়ে পানি যেতে পারে না। আমরা এক্সকেভেটর দিয়ে খালটি এখনই খনন করছি। কিন্তু আমরা যে খাল দখল করছি, জনগণকে কষ্ট দিচ্ছি, এটা হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা এই মার্চ মাসেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। তাই আসুন যেখানে যেখানে খাল দখল করে রেখেছে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এই খাল আমরা দখলমুক্ত করব।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, খাল মশা উৎপাদনের উর্বর ভূমি। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও আমাদের এই কাজে সহযোগিতা করছে। এই এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বাড়ির মালিক সমিতি, বিভিন্ন সোসাইটি সবাই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। একজন দখল করেছে, এই একজনের কারণে সবার ভোগান্তি হচ্ছে। আজ এই এলাকার মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত।

জানা গেছে, খাল ও হাঁটার জায়গা দখলের কারণে এতদিন ধরে খালটিতে পানির প্রবাহ বন্ধ ছিল। অল্প বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হত। এই বদ্ধ পানি কচুরিপানা ও মশার বংশবিস্তারের জন্য একটি আদর্শ স্থান। অসংখ্য মশার লার্ভা খালের পানিতে পাওয়া যেত।

অভিযানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়েদুর রহমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সলিমুল্লাহ সলু, আসিফ আহমেদ, সৈয়দ নূর হোসেন, ফোরকান হোসেন, হামিদা আক্তার মিতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।