মধুমতি ও নবগঙ্গার ভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে আতঙ্কে স্থানীয়রা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে প্রায় ৩ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত ৮ গ্রামের ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে

কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীতে গত কয়েক বছর ভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রামের নাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরে নবগঙ্গা ও মধুমতি নদীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙনে প্রায় ৩ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ। হুমকির মুখে পড়েছে কালিয়া পৌর শহরও।

বর্তমানে ভাঙনে পাড়ের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর যে কোন সময় নদীগর্ভে নিমজ্জিত হওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে। যে কারণে ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাড়িঘরহারা মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের গ্রামগুলোতে। সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র কালিয়া পৌরশহরের বড়কালিয়া, বৃহাসলা ও কুলসুর নামক স্থানে নবগঙ্গা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। কালিয়া পৌরসভার একটি জনপদের নাম কুলসুর। এক সময় এখানকার মৃতশিল্পের খ্যাতি ছিল সারা দেশে। গত কয়েক বছরে গ্রামটির একতৃতীয়াংশ জমিসহ প্রায় ২৫টি বাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। চলতি বছর ভাঙনে ৪টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে আরও কয়েকটি বাড়ি। একই নদীর তীরবর্তী একটি গ্রামের নাম দেবীপুর। চলতি বছরের ভাঙনে ওই গ্রামে প্রায় ১৩৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানিয়েছেন। তার পাশেই গ্রাম বাহিরডাঙ্গায়    প্রায় ৪০টি পরিবার নদী ভাঙনে গৃহহারা হয়ে পড়েছে। নদীর পানি কমার সাথে সাথেই ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে।

কালিয়া পৌরসভার মেয়র মো.ওয়াহিদুজ্জামান হীরা বলেছেন, পৌর শহরের বড়কালিয়া, বৃহাচলা ও কুলসুরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। চলতি বছরের ভাঙনে পৌর শহরের ৪০/৪৫ টি বাড়ি নদীতে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ না নিলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে গৃহহারা হয়ে পড়বে। কালিয়ার ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, নবগঙ্গা ও মধুমতির ভাঙনে এবছর উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উর্দ্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান জানান, সম্প্রতি তিনি ভাঙন কবলিত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, কালিয়ার ইউএনও এবং পৌর মেয়র। ভাঙন কবলিত ৮ গ্রামের ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।