বাড়ল আটা ও খোলা তেলের দাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। তবে বেড়েছে তেল, আটা-ময়দা এবং লবঙ্গের দাম। এদিকে, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য।

রাজধানীর কাপ্তান বাজার এবং সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। কেজিতে রসুনের দাম কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা। একই সময়ে ভালোমানের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা কমেছে। আদার দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা।

পক্ষান্তরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আটা-ময়দা, তেল, আলু ও লবঙ্গের দাম। এর মধ্যে কেজিতে লবঙ্গের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৭০০ টাকা। দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা কেজিতে। সাদা আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা করে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬ থেকে ১৮ টাকা।

গত সপ্তাহে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা আটা দুই টাকা বেড়ে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। খোলা সয়াবিনের লিটারে আরও পাঁচ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে এ তেল বিক্রি হয়েছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে।

ফেলে আসা সপ্তাহজুড়েই পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৬১০ থেকে ৬২০ টাকায়। এর আগের সপ্তাহে ছিল ৫৯০ থেকে ৬২০ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে বোতলজাত সয়াবিনের লিটার ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। একইভাবে পামওয়েল তেলেরও প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসা শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে পাঁচ টাকা। এছাড়া কাঁচা মরিচের কেজিতেও বেড়েছে ২০ টাকা। তবে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, গাজর, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী লিটন হাওলাদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। মাঝামাঝিমানের পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা; ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪৫ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহ এই পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের ঘাটতি না থাকার পরও আগের সপ্তাহে হুট করে দাম বেড়ে যায়। আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা কম দামে আড়ত থেকে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করি। সেখানে দাম বেশি হলে আমাদের কাছেও বেশি থাকে।

এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, পেঁয়াজের মতোই রসুন ও আদার দাম বেড়েছিল। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। সেই রসুন আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে। বিদেশি রসুন ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

সবজি ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন ইত্তেহাদকে বলেন, ৩০-৩৫ টাকার শসা আজ হঠাৎ করে ৪০-৪৫-এ বিক্রি করে হচ্ছে। কারণ আজকে কেনা দাম বেশি পড়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনুষ্ঠান হয় বেশি, তাই দাম বেড়েছে।

তবে বাজারটিতে গত সপ্তাহের মতোই পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এছাড়া শিম ৩০ থেকে ৪০, মুলা ১৫ থেকে ২৫, বেগুন ২০ থেকে ৩০, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ এবং গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা মুবিনুল ইসলাম ইত্তেহাদকে বলেন, বাজারের কথা কী বলব! একটির দাম কমলে, তিনটির বাড়ে। আমাদের দেশে কি কোনো আইন-কানুন আছে? থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম বাড়ল, কারা কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছে, তাদের বিচার করা হয়েছে?