বাসাইলে ঝিনাই নদীর ভাঙনের কবলে ১৬ গ্রাম

 ভঙ্গন কবলিত উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের একটি পাঁকা সড়ক

বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বাসাইলে গত এক সপ্তাহে ঝিনাই নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০-১৫টি ভিটাবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে উপজেলার ১৬টি গ্রাম। ভাঙন আতঙ্কে নদীর পাড়ের অনেকেই বাড়ি-ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার শেষ সম্বল বসত ভিটে হারিয়ে হয়েছেন আশ্রয়হীন। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া বিলপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের বীর নিবাসটিও। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভাঙ্গন কবলিত উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের গ্রাম

সরেজমিন দেখা গেছে, এ উপজেলার নদী তীরবর্তী ফুলকি, কাশিল, কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার অন্তত ১৬টি গ্রামে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন কবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে ফুলকি ইউনিয়নের দোহার, হাকিমপুর, জশিহাটি ও একঢালা। কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, দেউলী, কামুটিয়া, নথখোলা, কাশিল, থুপিয়া, নাকাছিম ও বিয়ালা। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাজিরাপাড়া, বিলপাড়া, মানিকচর ও আদাজান। বিলপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া বীর নিবাস যেকোনো মুহুর্তে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাকা সড়ক, খেলার মাঠ, হাট-বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলিন হবে বসতবাড়িসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ছিন্নমূলের তালিকায় যোগ হবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাবছরই ঝিনাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার ও বেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঝিনাই নদীর ভাঙনের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকার মো. খসরু খান জানান, আমার ভিটাবাড়ি যে টুকু ছিল, সবই নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো জায়গাটুকুও নেই। কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক বলেন, ইতোমধ্যেই নদী ভাঙ্গনরোধে ইউনিয়নের কামুটিয়া, দাপনাজোর ও কাশিল পশ্চিম পাড়া প্রায় দুই কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। যে সকল এলাকায় এখনো নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে সেসব এলাকার তালিকা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দেওয়া হয়েছে।

ফুলকি ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ঝিনাই নদীর তীরবর্তী দোহার দক্ষিণ পাড়া ও একঢালা গোয়ালপাড়া মসজিদের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করেছে। ওই সব এলাকায় নদী ভাঙ্গন বন্ধ হলেও নতুন করে দোহার উত্তরপাড়া কবরস্থান ইতোমধ্যে নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়া দোহার উত্তর পাড়া মসজিদটি হুমকিতে রয়েছে। হাকিমপুর, জশিহাটি পশ্চিমপাড়া ও একঢালা এলাকার প্রায় ১০টি ভিটাবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ অব্যাহত আছে। নতুন করে ভাঙন কবলিত পয়েন্টগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতি বছর অস্থায়ী ভাঙ্গনরোধে শুধু টাকাই অপচয় হচ্ছে। তাই ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া জরুরী। অহেতুক টাকা অপচয় ঠেকাতে ও নদী ভাঙনরোধের স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।