বালিয়াকান্দিতে গড়াই নদী ভাঙ্গনরোধে ব্যাম্বো বান্ডেলিং প্রকল্প নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে নদী পাড়ের ৫ শতাধিক পরিবার

বালিয়াকান্দি(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

গড়াই নদী ভাঙ্গনে জর্জড়িত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের ৭ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।

নদীপাড়ের মানুষের ঘর বাড়ি ফসলি গ্রাস করে নিচ্ছে গড়াই নদী। ভাঙ্গনরোধ করতে নেয়া হয়েছে ব্যাম্বো বান্ডেলিং সারা বাংলাদেশ শীর্ষক পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর, কোনাগ্রামে শুরু করা হয়েছে বাঁশের বাঁধ নির্মাণের কাজ। প্রকল্পের কাজটি করছেন ফরিদপুর নদী গবেষনা ইনস্টিটিউট।

নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা, কোনাগ্রাম, জামসাপুর, বাকসাডাঙ্গী, নারুয়া, সোনাকান্দর ও বাঙ্গরদা গ্রামে গত ২বছর যাবত চলছে বাঁশের বেড়া প্রকল্পের কাজ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিবর্তন হবে নদীর গতিপথ, কমবে ভাঙ্গন, বাড়বে ফসলি জমি। যার কারণে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখবে নদী-তীরবর্তী ৭ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।

ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানায়, ২৫ ফুট লম্বা বাঁশের বেড়া, ১৩ ফুট মাটির নিচে এবং ১২ ফুট মাটির উপরে থাকবে। এতে করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হবে। বন্ধ হবে নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যাপক ভাবে সুফল বয়ে আনার ফলে চলতি বছর উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর ও কোনাগ্রামে নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ চলমান। দেড় কিলোমিটারের ব্যায় ধরা হয়েছে ৫৪ লক্ষ টাকা। যা গত অর্থ বছরে ছিলো দুই কিলোমারের জন্য ৬৪ লক্ষ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্বাবধানে গড়াই নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁশের বেড়া প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনছে। যেসব এলাকায় কাজ হয়েছে, সে স্থানগুলোতে ভাঙ্গন নয় আরও বালির স্তর জমেছে। আশা করছি এই বর্ষা মৌসুমে আমরাসহ গড়াই নদীর তীরের বাসিন্দারা নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে কিছুটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবো। এতে ঘর বাড়ী, ফসলি জমি রক্ষা পাবে। তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর দাবি নদী ভাঙ্গন কবলিত প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে এই রকম বাঁশের বেড়া প্রকল্পটি চলমান থাকলে তাতে নদী ভাঙ্গন তীরবর্তী মানুষ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে।

নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, গড়াই নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে বাঁশের বেড়া প্রকল্পটি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সুফল বয়ে আনবে বলেও আমি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে প্রকল্প তদারকি কর্মকর্তা ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। এতে ভাঙ্গন কমবে। যার কাজ প্রায় ৯৯.৫০% কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই কাজ শেষ হবে।