বাড়ি অর্থনীতি বাজারে দাম নেই, হিমাগারে জায়গা নেই

বাজারে দাম নেই, হিমাগারে জায়গা নেই

দিনাজপুর প্রতিনিধি

বাজারে দাম নেই, হিমাগারে জায়গা নেই। এই অবস্থায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে দিনাজপুরের আলুচাষীরা। ফলন ভালো হলেও হিমাগারে জায়গা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই কম দামে আলু বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। দিনাজপুরে এবার ১০ লাখ টন আলু উৎপাদন হলেও জেলার ১৩টি হিমাগারে ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১ লাখ ২৪ হাজার টন। ধারণ ক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই আলু বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে হিমাগার মালিকরা।
দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে পাইকারী বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৯ টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না আলুচাষীদের।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চাকাই গ্রামের আলুচাষী আনসারুল ইসলাম জানান, ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন তিনি। প্রতিবিঘাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর প্রতিবিঘাতে আলুর ফলন হয়েছে ১’শ থেকে ১১০ মণ। গত কয়েকদিন আগে তিনি প্রতিকেজি আলু বিক্রি করেছেন সাড়ে ৯ টাকা দরে। এতে প্রতিবিঘাতে তার লোকসান হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
একই উপজেলার কমরপুর গ্রামের আলুচাষী প্রমথ রায় জানান, ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে ১০ টাকা ৪১ পয়সা। পাইকারী বাজারে দাম না থাকায় এবং আলু রাখার জায়গা না থাকায় তিনি প্রতিকেজি আলু বিক্রি করেছেন ৯ টাকা ১৫ পয়সা দরে। প্রতিকেজিতে তাকে লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় দেড় টাকা। এতে ১০ বিঘা আলুর চাষ করে তাকে বিপুল পরিমান লোকসান দিতে হয়েছে। তিনি জানালেন, হিমাগারে আলু রাখার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়েই লোকসান দিয়ে তাকে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা জানান, আলু চাষী বলরামসহ অন্যান্যরা। হিমাগারে জায়গা না পেয়ে কেউ আলু স্তূপ করে রেখে দিয়েছে দামের আশায়। জায়গা ও দাম না থাকায় অনেকেই মাঠে স্তূপকৃত আলু রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।
এদিকে দিনাজপুরের বিভিন্ন হিমাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধারণ ক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই বুকিং নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে হিমাগার মালিকরা। বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স হিমাদ্রী হিমাগারের ম্যানেজার সাদেক আলী জানান, তাদের হিমাগারের ধারণ ক্ষমতা ৮ হাজার ৮’শ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে এই পরিমান আলু বুকিং হয়ে যাওয়ায় তাদের হিমাগারে আর কোন জায়গা নেই। এজন্য বুকিং বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। বোচাগঞ্জ উপজেলার রাহবার হিমাগার প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার শাহজাহান আলী জানান, তাদের হিমাগারের ধারণ ক্ষমতা ১০ হাজার ৮০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যেই তা পুরণ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় প্রতিদিন আলুচাষীরা আলু রাখার জন্য আসলেও আর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়েই আলুচাষীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু করার কিছু নেই।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৮ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। এতে ফলন হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দিনাজপুর জেলা মার্কেটিং অফিস সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় মোট ১৩টি হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন। কিন্তু জেলায় আলু উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। তাই এই বিপুল পরিমাণ আলু রাখার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করে দিচ্ছে আলুচাষীরা। কেউ কেউ দামের আশায় আলু রেখে দিয়েছে স্তূপ করে।