বর্ডার হাট বন্ধে বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে বালিয়ামারী-কালাইরচর বর্ডার হাট

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রাজিবপুর (বালিয়ামারী-কালাইচর) বর্ডার হাট করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন হাট বন্ধে দ্ইু দেশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। জানা গেছে, এই বর্ডার হাটের মাধ্যমে দুই দেশের ৫ কিলোমিটার অঞ্চলের লোকজন সুবিধা পেতেন। অঞ্চলিক কেনাকাটা প্রসারিত হয়েছিল। তাই বর্ডার হাট চালু রাখার দাবি জানান এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ জুলাই দুই দেশের সীমানার ঠিক মাঝখানে আন্তর্জাতিক ১০৭২ নম্বর পিলার ১৯ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ হাটটি নির্মিত হয়। বর্ডার হাটের সাথে সংশ্লিষ্ট আছেন সীমান্তের প্রায় ২ হাজার গরিব পরিবার। এছাড়াও এহাটে বাংলাদেশের বিক্রেতা ২৫ জন ও ক্রেতা ৬১৪ জন এবং ভারতের ৫০ জন বিক্রেতা ও ৩৫৯ জন ক্রেতা রয়েছেন।

ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, অনেক দিন ধরে বর্ডার হাট বন্ধে আমাদের মতো গরিব মানুষের খুব কষ্ট হয়েছে। এ হাটে সস্তায় কেনা-কাটা করতাম। প্রতি সপ্তাহে সোম ও বুধবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত এ হাট চালু ছিল। ওই পারের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হতো হাট বন্ধের জন্য এখন তা আর হয় না। বিক্রেতা ফরিজল হক জানান, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে হাট বন্ধ থাকায় আমাদের সামান্য পুঁজি শেষ হয়েছে আগেই। অর্থের অভাবে আমাদের সংসার ঠিকমতো চলে না। হাট দ্রুত খুলে দেওয়ার জোড়ালো দাবি জানাই।

বর্ডার হাট কমিটির সদস্য ও রাজিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বর্ডার হাট বন্ধে দুই দেশের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খুব শিগগির হয়তো হাট খুলে দেওয়া হবে। বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উত্তম কুমার রায় বলেন, হাট পুনরায় খুলে দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আমরা হাট চালুর ব্যাপারে খুব দ্রুত একটি মিটিং ডাকবো। সেখানে কমিটির লোকজন নিয়ে সিন্ধান্ত হবে।