বনবিভাগ ও প্রশাসন নিরব শাহজাদপুরে প্রাচীন দুটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি

শাহজাদপুরে শতাব্দী প্রাচীন দু’টি বৃক্ষে কুঠারের আঘাত পড়েছে। বনবিভাগ নীরব। একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাশ্মাশানের বটবৃক্ষ অপরটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অচিন গাছ। শ্মশানের বট-পাকুরের যুগলবন্দি বট গাছটি কেটে ফেলায় শ্মশানঘাট কমিটির একাধিক সদস্য এর প্রতিবাদ জানিয়ে একযোগে পদত্যাগ করার খবর পাওয়া গেছে ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহজাদপুর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান এক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার পাল জানান, কারো মতামত ছাড়াই শ্মশান কমিটির সেক্রেটারি প্রদীপ কুমার পোদ্দার একক সিদ্ধান্তে শতাব্দী প্রাচীন যুগলবন্দি বট-পাকুরের বট গাছটি কেটে সয়লাব করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, এর প্রতিবাদ জানিয়ে শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির অন্যতম চার সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলে এ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে। তিনি জানান প্রাচীন বটগাছ কেটে ফেলায় শ্মশান কমিটির সদস্য রতন বসাক, রাম বসাক, ভরত বসাক ও প্রবিত্র কুমার কুন্ডু সংক্ষুদ্ধ যে তাঁরা কমিটি থেকে পদত্যাগ করে শ্মশান কমিটি থেকে বের হয়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে পদত্যাগকারি রতন বসাকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেটে ফেলা বটগাছটিতে প্রয়াত অনেক মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হিন্দু সমপ্রদায়ের অন্যতম নেতা শ্রী সন্তোষ কুমার সাহা (৬০ ) অভিযোগ করে বলেন বর্তমান শ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী মনরঞ্জন সাহা ও সেক্রেটারি শ্রী প্রদীপ কুমার পোদ্দার এ বটগাছটির ঐতিহ্যর কথা বুঝতেই চায়নি। তিনি জানান তাঁর প্রয়াত পিতা অমরেন্দ্র নাথ সাহা তাকে বলে গেছেন, যুগলবন্দি বট-পাকুরের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘটাকরে । তাই যুগলবন্দি বট-পাকুর বৃক্ষটি হিন্দু সম্প্রদায়ের কছে অত্যান্ত পুজনীয় ।

 

এ ব্যাপারে শ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী মনরঞ্জন সাহা ও সেক্রেটারি শ্রী প্রদীপ কুমার পোদ্দার সাথে কথা হলে তারা জানান জঙ্গল কাটা নিয়ে শ্মশান কমিটির সবার সাথে কথা হয়েছিল। কিন্তু শ্মশানের জঙ্গল কাটতে হয়ে যুগলবন্দি বট-পাকুরের বটগাছটি ভুল করে কেটে ফেলা হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি ।
অপর দিকে উপজেলা সদর দরগাপাড়ায় অবস্থিত হযরত মুখদুম শাহদৌলা দারুল খুলদ্ ফাজিল মাদরাসার একটি শতাব্দী প্রাচীন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগ গাছটির নাম পরিচয় বের করতে না পারলেও স্থানীয়রা গাছটির নাম দিয়েছিল অচিন গাছ। সে গাছটি মাদরাসা ভবন নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে। ওই মাদরাসার ক’জন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, গাছটি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন কাটা হয়েছে। শিক্ষকরা জানান, গাছে প্রতিটি কুঠারের আঘাত তাদের বুকে এসে লেগেছে। গাছটি শুধু শতাব্দী প্রাচীন নয়, এ গাছটি ইতিহাসের অনেক সাক্ষী। স্থানীয় বাসিন্দা মীর বদর উদ্দিন (৮৭) ও পাশেরপাড়ার আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৭৫) জানান, অচিন গাছটি ঘিরে বহুকাল ধরে মেলা বসতো। মেলায় সার্কাস বিনোদনের বাড়তি মাত্রা যুক্তহত। এখন সেসব অতীত। মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম খান জানান, আমার অধ্যক্ষের দায়ীত্বভার নেয়ার আগে গাছটি কাটা হয়েছে। বিষয়টি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভপতি আমিরুল ইসলাম শাহু সাহেব ভাল বলতে পারবেন। এব্যাপারে আমিরুল ইসলাম শাহু জানান, গাছটি কাটতে কষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাশরুম সংকটের কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এখানে একটি প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হবে।

 

এদিকে স্থানীয় বনবিভাগের প্লানষ্টেশন মেম্বর ( পিএম ) রাশিদুল হাসান জানান, শ্মশানের গাছটি কাটার খবর তাদের জানা নেই। তবে মাদরাসার গাছটি কাটতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে গাছটি না কাটতে বলা হয়েছিল। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামছুজ্জোহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে গাছ দুটি আমাদের অমূল্য সম্পদ ছিল। বনবিভাগ ব্যবস্থা নিলেও নিতে পারতেন।