ফুলবাড়ীতে করোনা ঊর্ধ্বমুখী স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনা সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন। শুধুমাত্র ১ জুন খেবে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৭ জুন পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলা করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ জনে। করোনা আক্রান্তের হার বাড়লেও কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। মাক্স ছাড়াই, অফিস, হাট-বাজার, গণপরিবহনে চলাফেরা করছে মানুষ। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। ফলে উপজেলায় করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত লকডাউন চেয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে সুপারিশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী পৌরএলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর দিকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও এখন মানুষের মধ্যে নেই করোন প্রকার সচেতনতা। স্বাভাবিক ভাবেই চলছে প্রায় সকলেরই জীবনযাপন করছে সবাই। নেই কারো মুখে মাস্ক। নেই সামাজিক দূরত্ব। কিছু কিছু মানুষ মাস্ক পড়লেও তা থাকছে না নাকে কিংবা মুখে। তারা বেঁচে থাকতে মাস্ক ব্যবহার করছে না। তারা প্রশাসনের জরিমানা থেকে বাঁচতে মাস্ক নিয়ে ঘুরছে। সামাজিক দূরত্ব দূরে ঠেলে গাদাগাদি করা হচ্ছে বিভিন্ন দোকানপাটসহ, মাহিন্দ্র, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানে। পুরো শহর থাকছে এখন লোকে-লোকারণ্য। আর গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে মানুষের সচেতনতা আরও কম। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। এমনকি মুখের সাথেও মুখ লাগিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। যেনো করোনা নামক কোন ভয়ভীতি নেই তাদের মধ্যে। একই সাথে স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রাইভেট-কোচিং সেন্টারগুলো দেদারসে রয়েছে চলমান। আগের মতোই গাদাগাদি করেই ব্যাচ করে পড়ানো হচ্ছে প্রাইভেট-কোচিংয়ে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতেও নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। সেখানেও মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই চলছে দপ্তরিক কার্যক্রম।
এদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলায় করোন সংক্রমণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মঙ্গলবার (১৫ জুন) থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি। একই সাথে দিনাজপুর জেলার অন্য ১২টি উপজেলা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হলেও কেউ সেই নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। যে যার মতো চলছে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই। হোটেল-রেস্তোরায় সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে খাবার পরিবেশনের জন্য বলা হলেও স্থানীয় কোন হোটেল-রেস্তোরাই মানছে না এই বিধিনিষেধ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার পাঁচ হাজার ৭৭২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৩০ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৯১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। শুধুমাত্র গত বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যান্টিজেন টেস্টে ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং দিনাজপুর ল্যাব থেকে শনাক্ত হয়েছেন অন্য ৫ জন এ নিয়ে ১৫ জন শনাক্ত হয়েছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ফুলবাড়ীতে আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণি সম্পদ, উপজেলা পরিষদসহ বেশ কিছু সরকারি দপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুতই ফুলবাড়ীতে লকডাউন জরুরি হয়ে পড়েছে। দিনাজপুর সিভিল সার্জন স্যারের কাছে ফুলবাড়ীতে দ্রুত লকডাউনের জন্য সুপারিশ করেছি। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে করোনা ভাইরাস।’
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ফুলবাড়ীতে করোনা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিংসহ জরিমানা করা হচ্ছে। তবুও জনগণ সচেতন হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। এর বিকল্প নেই। ফুলবাড়ীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলেই ফুলবাড়ীকে লকডাউন ঘোষণা করা হবে।