ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাষ লাভবান কৃষক-কৃষানী

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উত্পাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষ হচ্ছে। এসব বেডে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শষা, লালশাক, পাটশাক, কলশীশাক, ধনিয়া পাতাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করছেন অনেক চাষি।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমি ৬-৮ মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় পতিত থাকছে। তাছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে ফরিদগঞ্জ অংশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পুরোটাই কচুরিপানা দিয়ে বেষ্টিত রয়েছে। এ সকল স্থান ও নদীতে অধিকহারে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকরা শাকসবজি, চারা উত্পাদন ও বীজতলা তৈরি করে অধিক লাভবান হতে পারবে।

সূত্র জানায়, কৃষক-কৃষানীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১.২৫ মিটার প্রস্থ, ৪-৫ মিটার উচ্চতার কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে ও পঁচা কচুরিপানা উপরে দিয়ে প্রতিটি বেড তৈরিতে ৭/৮ জন শ্রমিকের লাগে। প্রতিটি বেড প্রস্তুত করতে সাড়ে ৩-৪ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এ বেডে ৪/৫ বার ফসল উত্পাদন করা যায়। তিনটি বেড থেকে গড়ে ১৩/১৪ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরন করে বাজারে উদ্বৃত শাকসবজি ও চারা বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া জৈবসারে উত্পাদিত এ শাকসবজিতে কোন ধরনের কিটনাশক ছিটানো হচ্ছেনা।

সোভান এলাকার ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষী মো. মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, স্থানীয় কৃষি দপ্তর আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমানে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আমার ২৫টি বেড রয়েছে। সরকার আমাদের জন্য সুদবিহিন ঋণের ব্যবস্থা চালু করলে আমরা ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাসে বিপ্লব ঘটাতে পারবো। আরেক কৃষক বাবুল গাজী জানান, আমার ১২টি ভাসমান সবজির বেড রয়েছে। এখানে সবজি ও চারা উত্পাদণ করে মোটামািট ভালোই চলছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, এ পদ্ধতি সম্পূর্ন জৈব ও বাণিজ্যিক ভিক্তিতে আয়বর্ধক একটি চাষ প্রক্রিয়া। পারিবারিকভাবে সবজির চাহিদা মিটিয়ে আর্থিক লাভবান হওয়ার অপার সম্ভবনা রয়েছে ভাসমান বেডে সবজি চাষে। সরকার বড় ধরনের বরাদ্দ দিলে এ এলাকার ১৮ কিলোমিটার ডাতাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জের অংশে কচুরিপানা জটকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ করার জন্য উপযুক্ত হচ্ছে উপজেলার বদ্ধজলাশয় ভূমিগুলো। ভাসমান বেডে সবজি চাষ কিভাবে আরো ভালো করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো।