পুঁজিবাজারে স্বস্তির হাওয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি

টানা কয়েক সপ্তাহ দর পতনের পর দামবৃদ্ধি নিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পার করল দেশের পুঁজিবাজার। বিদায়ী সপ্তাহে বিমা খাতসহ বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন।

এতে করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের মূলধন অর্থাৎ পুঁজি বেড়েছে ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগের সপ্তাহে বেড়েছিল এক হাজার ২৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৯ টাকা। অর্থাৎ টানা ৫ সপ্তাহ মূলধন কমার পর এ দুই সপ্তাহ বাড়ল লেনদেন।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে স্বস্তির বাতাস বইছে। ইতিবাচক ধারায় ফিরছে পুঁজিবাজার। তবে এ সময়ে স্বল্প মূলধনী এবং দুর্বল ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জেনে বুঝে বিনিয়োগ করার পরামর্শ তাদের।

ডিএসইর তথ্য মতে, তিন কার্যদিবসে উত্থান ও দুই কার্যদিবসে সূচক পতনের সপ্তাহে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৯টির, কমেছে ১০০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। আগের সপ্তাহে বেড়েছিল ১২১টির, কমেছিল ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস-৩০ সূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে অর্ধেক বেড়েছে। গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা ৩ হাজার ৫৯৫ কোটি ৯৭ লাখ ৭৯ হাজার ২৪৬ টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। এর আগের সপ্তাহে তারা ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৯ টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেন।

তাতে ডিএসইতে বাজার মূলধন ৬ হাজার ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৩১৭ টাকা বেড়ে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫ কোটি ৬৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৭টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮৬ হাজার ২২০ টাকা। অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল- ই জেনারেশন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ, জিবিবি পাওয়ার, বিকন ফার্মা, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, লিব্রা ইনফিউশন, ফাইন ফুডস, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এআইবিএল ১ম ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড লিমিটেড।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো, রবি আজিয়াটা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মা, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, সামিট পাওয়ার, জিবিবি পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম, অরিয়ন ফার্মা এবং স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড।

এদিকে, দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২০৬ কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৫ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১২২ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৭০৫ টাকা।

বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ৩০৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৪টির। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছিলো ৮২টির, কমেছিল ১২৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সপ্তাহ শেষে এ বাজারের প্রধান সূচক ৩২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।