পাসপোর্ট মেলেনি খালেদা জিয়ার, বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্ব

বিশেষ প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিত হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি রি-ইস্যু করতে দেওয়া তার পুরাতন মেশিন রিডেবল পাসপোর্টটিও (এমআরপি) এখনো হাতে পাননি তিনি।

করোনা ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় বেগম জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়ার দাবি তোলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। বিষয়টি এখনো বিবেচনা করছে সরকার।

তবে বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির অনেকে দাবি করেন শুক্রবার খালেদা জিয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিস খোলা রেখে তার পাসপোর্টটি রি-ইস্যু করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একটি গণমাধ্যমও এ বিষয়ে সংবাদ ছেপেছে। তবে বিষয়টিকে ‌‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।

অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী ইত্তেহাদকে বলেন, ‘শুক্রবার অধিদফতর বন্ধ ছিল। বন্ধের দিন খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট রি-ইস্যু করে দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন তথ্য ছড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মেয়াদউত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এদিকে খালেদা জিয়া সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর কোন দেশে যাবেন তা নিয়ে এখনো ধোয়াশা কাটেনি। খালেদার চিকিৎসক ও পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য নেওয়ার কথা বললেও তাকে যুক্তরাজ্য নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু করেনি পরিবার। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়ে রেখেছে দেশটির সরকার।

এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয় তিনটি দেশ হচ্ছে সিঙ্গাপুর, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। এই দেশগুলোর সঙ্গেও বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিএনপি কর্মীরা ‘দ্রুত খালেদাকে বিদেশ নেওয়া হচ্ছে’ বললেও এখনো দালিলিক কার্যক্রম শুরু করেনি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান ইত্তেহাদকে বলেন, ‘আমার কাছে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে কোনো আবেদন আসেনি।’

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন তার বাসভবন ফিরোজায় আরও আটজন ব্যক্তিগত স্টাফও করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।

গত সোমবার (৩ মে) সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।