পাবনায় দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

উপজেলার শেলন্দার এলাকার খামারিরা অবিক্রিত দুধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন

পাবনা প্রতিনিধি

চলমান লকডাউনে পাবনায় বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঘোষেরাও দুধ তেমন কিনছেন না। এ সব কারণে পাবনা অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার খামারি উত্পাদিত প্রায় ১০ লাখ লিটার দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। উত্পদিত দুধ এলাকা ভেদে প্রতি লিটার ২৫ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে ননফ্যাট দুধও বিক্রি হচ্ছে না। পাশাপাশি বেড়েছে গোখাদ্যের দাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কঠোর লকডাউনে আফতাব, আকিজ, ইগলু, ফ্রেসমিল্ক, পিউরা মিল্ক, অ্যাংকার, প্রাণসহ ২০টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ কেনা বন্ধ রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিন দুধ সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ লিটার। এছাড়া অবশিষ্ট দুধ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঘোষেরা কিনে থাকেন। লকডাউনের কারণে ঘোষ ও ব্যসায়ীরা তেমন  দুধ কিনছেন না। কারণ মিষ্টির দোকানে বেচাকেনা কম থাকায় ছানার তেমন চাহিদা নেই। লকডাউনের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দুধ প্রক্রিয়াজাত করে বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে উত্পাদিত দুধ নিয়ে খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার স্কুল শিক্ষিকা মাহফুজা খানম মিনা বলেন, তার খামারে প্রতিদিন উত্পাদিত ৩০০ লিটার দুধ স্থানীয় ‘ইগলুর দুগ্ধ সংগ্রহ শালায়’ সরবরাহ করেন। প্রাণ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা আপাতত দুধ কিনবেন না। গত বৃহস্পতিবার দুধ নিয়ে গেলে তারা সেই দুধ ফিরিয়ে দেয়। পরে খোলাবাজারে তিনি সেই দুধ ২৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এক লিটার দুধ উত্পাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৫০ টাকা।

চরাচিথুলিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় সমিতির কয়েকজন সদস্য সোহেল রানা, ইউসুফ আলী, রওশন আলী, আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, যাদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, তারা বাধ্য হয়ে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে তাদের দুধের উত্পাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না। সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান বাঘাবাড়ি ‘মিল্কভিটার’ সাঁথিয়ার বোয়ালমারি প্রাথমিক দুগ্ধ সমবায় সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন জানান, তার সমিতির ১৩২ জন সদস্য প্রতিদিন ৫০০ লিটার দুধ মিল্কভিটায় সরবরাহ করেন। বর্তমান অবস্থায় তারা ২২০ থেকে ২৫০ লিটার দুধ সরবরাহ করতে পারছেন। অবশিষ্ট অবিক্রিত দুধ খোলাবাজারে কম দামে বিক্রি করে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বেসরকারি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠার ‘পিউরার’ ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ মানিক জানান, তিনি প্রতিদিন খামারিদের কাছ থেকে চার হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে ঢাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। ঢাকা থেকে চাহিদাপত্র না পাঠানো পর্যন্ত দুধ কেনা বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিপণন ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে। এতে খামারিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’