পাথরঘাটায় অবাধে চলছে অনুমোদনহীন করাতকল উজার হচ্ছে বনের গাছ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কুপদন এলাকার একটি করাতকল

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

পাথরঘাটায় অধিকাংশ করাতকল অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই চলছে এসব করাতকল। এসব করাতকলে উজাড় হচ্ছে বনের গাছ।

বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা ইউসুব আলী হাওলাদার জানান, এ উপজেলায় যথাযথ পক্রিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত করাতকলের সংখ্যা মাত্র ৩২টি। অপরদিকে লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ৬১টি। বন বিভাগের আইনে বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধে চলছে এসব করাতকল। দেখা গেছে, সংরক্ষিত সামাজিক বনায়নের ভেতর, বনঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে করাতকল। ঐসব কলে কাঠ চোর ও অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে চেরাচ্ছে বনের কাঠ।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সংকল্প ট্রাস্টের’ পরিচালক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ জানান, এর ফলে ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ, আর উজাড় হচ্ছে বন। এতে হারিয়ে যাচ্ছে বন্য প্রাণী। লাইসেন্সধারী করাতকল মালিক গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, পাথরঘাটায় বৈধভাবে (লাইসেন্সকৃত) ৩২টি করাতকল থাকলেও অবৈধগুলো দেদার চলার কারণে তাদের কলগুলো ভালোভাবে চলছে না। তিনি আরও জানান, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের সরকারি বিধান না থাকলেও বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হয়েছে ওইসব অবৈধ করাতকল।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ করাতকল গড়ে উঠেছে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক ঘেঁষে। একাধিক করাত কল মালিক জানান, ট্রলারের কাঠ কাটার সূত্র ধরেই করাতকলের ব্যবসা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। কোনো সময় ওপর থেকে কেউ এলে তাদেরকে ম্যানেজ করা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি ফাতিমা পারভীন বলেন, অবৈধ করাতকল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাসিক মিটিং চলাকালে এ বিষয় আলোচনা করে সতর্ক করে অবৈধ করাতকল মালিকদের নোটিশ পাঠানো হবে।

পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল হক বলেন, যারা অবৈধভাবে করাতকল চালাচ্ছে তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। আইন না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মাদ আল-মুজাহিদ বলেন, বন বিভাগকে সাথে নিয়ে অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে খুব শিগগির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।