পদ্মা-মেঘনার পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত বগুড়া ও জামালপুর জেলা

ইত্তেহাদ রিপোর্ট

বন্যা প্রবণ প্রায় সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে পদ্মা ও মেঘনার পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে।পদ্মার পানি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে। ফলে দীর্ঘায়িত হয়েছে মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বগুড়া ও জামালপুর জেলা। বন্যায় কয়েক লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল। দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বল্পমেয়াদি বন্যা তিনবার দেখা দিলেও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এবার দীর্ঘায়িত হয়েছে।

পাউবো জানায়,গত ১৬ আগস্ট থেকে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে আছে। এর আগে পরে অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা আবার কমে গেছে। কিন্তু পদ্মার পানি এখনো বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি ওপরে আছে। তবে বর্তমানে এই নদীর পানিও কমছে। দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি কমছে। আগামীকাল শনিবার নাগাদ এই ধারা অব্যহত থাকবে। ফলে আজ শুক্রবারের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতিরি আরো উন্নতি হবে।এদিকে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও বানের পানি লোকালয় থেকে এখনো পুরোপুরি সরেনি। উপরন্তু ভাঙন বাড়ছে যমুনা, তিস্তা আর ব্রহ্মপুত্র পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি মাসে আরেকটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা আসতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীয় মো. আরিফুজ্জামান ভ‚ঁইয়া জানিয়েছেন,বর্তমানে আত্রাইয়ের পানি বাঘাবাড়িতে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ধলেশ্বরীর পানি এলাসিনে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, তুরাগের পানি কালিয়াকৈরে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কালিগঙ্গার পানি তারাঘাটে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পদ্মার পানি গোয়ালন্দে ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও সুরেশ্বরে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং চাঁদপুরে মেঘনার পানি ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।গতকাল বৃহস্পতিবার পাউবোর পর্যবেক্ষণাধীন বিভিন্ন নদ-নদীর ১০৯টি স্টেশনের মধ্যে পানির সমতল বেড়েছে ১৭টিতে। কমেছে ৮৬টি স্টেশনের পানির সমতল। ছয়টিতে অপরিবর্তিত আছে। আর বিপৎসীমার ওপরে আছে সাতটি স্টেশনের পানি।ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ফরিদপুর পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার কমে এখন তা বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।বন্যার পানির ফলে ফরিদপুরের সদর উপজেলার ডিক্রিরচর, নর্থচ্যানেল, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাসহ নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া ফরিদপুরের সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পানি ঢুকে যাওয়ায় সেখানকার অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।এদিকে এলাকার অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। অনেক স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছে।এছাড়া গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে ।

বন্যা কবলিত এলাকায় রয়েছে সুপেয় পানির সংকট। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান,কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদীর পানি কমা অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ধরলা তিস্তা দুধকুমোর ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব কটি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনও আড়াই শতাধিক চরের নিম্নাঞ্চল গুলোতেও পানি কমলেও কাঁদা মাটিতে ভরে আছে অনেকের বাড়ি ঘর। এগুলো বসবাস উপযোগী করতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান বানভাসীরা। যারা ঘর বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন তাদের কেউ কেউ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বাড়ি ঘর মেরামতসহ কাঁদা পরিস্কার করতে সময় লাগবে। অনেকের হাতে নেই তেমন পয়সা কড়ি। পানিবন্দি গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ৯ উপজেলায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে।

কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ও ধরলার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিস্তার ভাঙনে রাজারহাটের গতিয়াশ্যাম গ্রামটি অনেকটা বিলুপ্তির পথে। সেখানে একটি স্কুল, শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি ও কয়েকশ হেক্টর জমির আবাদী জমি গত এক মাসে বিলীন হয়ে গিয়েছে।