পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ভাঙন হুমকিতে শিলাচরসহ গুচ্ছ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার

ভাঙন হুমকিতে শিলাচরসহ বলাশিয়া গুচ্ছ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, ইচ্ছে করলেই পদ্মার ঐ অংশের ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব না। কারণ ঐখানে প্রতিরোধ করলে তার প্রভাব চাঁদপুর শহরের মোলহেডে এসে পড়বে। এছাড়াও এর আগে চাঁদপুর শহরের বিপরীতের চরগুলো অপসারণ করতে হবে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের শিলাচর এলাকায়। গত কয়েকদিনের ভাঙনে বহু পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছেন। এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শিলাচরসহ বলাশিয়া গুচ্ছ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি। এতে আতঙ্কের মধ্যেই দিন রাত পার করছেন ভাঙন হুমকিতে থাকা লোকজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিলাচরের কয়েকটি পরিবার তাদের বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন, কেটে নিচ্ছেন জমির গাছ। এদের কেউ কেউ একাধিকবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। ভাঙনের শিকার শুক্কুর ডালীসহ বেশ কয়েকজন বলেন, অন্য কোথাও জায়গা-জমি না থাকায় আপাতত অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙন বেড়ে যায়। তাই নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চান তারা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আবু হানিফ প্রধানিয়া বলেন, আগেও নদীতে বাড়ি ভাঙছে। আবারো নদীর পানি বাইড়া বাড়ি ভাইঙা গেলো। দুই দিন হইলো অন্যের জায়গায় ঘর তুলছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনে ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডই পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। নদীর স্রোত এবং অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিংয়ের কারণে আমরা ভাঙন হুমকিতে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় কোথায় আশ্রয় নেবো।
রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের শিলাচরসহ বলাশিয়া গুচ্ছ গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন দুটি গণকবরস্থান, দুটি মসজিদ, একটি ঈদগাঁ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি চেয়ারম্যান লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করেছেন। স্থানটি তিন নদীর মোহনা এবং ভাঙন প্রতিরোধ টেকনিক্যালয় বিষয় হওয়ায় বেশি কিছু বলতে পারছি না।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি কমিটি পদ্মার ভাঙনসহ তিন নদীর মোহনা রক্ষায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে স্টাডি করেছে। তাদের রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। স্টাডির বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং(আইডাব্লিউএম) খুব শিঘ্রই সার্ভে করতে আসবে। তবে ইচ্ছে করলেই পদ্মার ঐ অংশের ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব না। কারণ ঐখানে প্রতিরোধ করলে তার প্রভাব চাঁদপুর শহরের মোলহেডে এসে পড়বে। এছাড়াও এর আগে চাঁদপুর শহরের বিপরীতের চরগুলো অপসারণ করতে হবে।