নেত্রকোনার ৫টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ১২২টি বাঁধ নির্মান কাজ শেষ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার জেলার আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্য ১৬১ টি ছোট বড় বাঁধের মধ্যে ১২২টি বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বাকি ৩৯টি বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টশন কমিটি) গঠন করা হলেও টাকা বরাদ্দ না পাওয়ায় সেই বাঁধগুলো নির্মিত হচ্ছে না।
নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ নির্মাণের পর পরই নির্মিত বাঁধের দুদিকে ঘাস লাগানোর কাজ ছাড়াও গাছের চারাও রোপণ করা হচ্ছে। ১২২টি বাঁধ নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
নেত্রকোনা জেলার হাওর উপজেলাগুলো হচ্ছে মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, আটপাড়া, মদন এবং কলমাকান্দার বেশ কিছু অংশ। এই উপজেলাগুলোর কোন কোন এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই আগাম বন্যায় উঠতি বোরো ফসলের ক্ষতি হয়। আবার প্রতিবছরই এই সমস্ত বাঁধ নির্মাণ করতে হয়।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাঁধগুলো সরাসরি পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে না। এর জন্য স্থানীয়ভাবে পিআইসি কমিটি গঠন করতে হয়। যে যে এলাকায় বাঁধ নির্মিত হবে সেই এলাকার লোকদের নিয়ে পিআইসি কমিটি গঠন করতে হয়। রাজনৈতিক কারণে বা কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে পিআইসি কমিটি গঠন করতে গিয়ে দেরী হয়। ফলে বাঁধ নির্মাণও দেরীতে হয়। যথা সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে আগাম পানি এসে হাওরের বোরো ফসল বিনষ্ট করে ফেলে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, এবার বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করা হয় এখন বাঁধগুলোকে টেকসই করার জন্য গাছের চারা রোপণ ছাড়াও ঘাস লাগানো হচ্ছে।

খালিয়াজুরীর কৃষক মহমিন মিয়া বলেন, এবার বাঁধ নির্মাণ যথা সময়ে হয়েছে। ফলে আগাম বন্যার পানি বোরো ফসলের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, তিনি নিজে বাঁধ নির্মান এলাকা কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। কাজের মান ভালো ছিল। সার্বক্ষণিক মনিটর করা হয়।
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় হাওর পারের কৃষকরা খুশী। আগাম বন্যা আসলেও উঠতি বোরোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
এখানে উল্লেখ্য, এবার নেত্রকোনা জেলায় ৫টি হাওর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চলতি মাসের মাঝাসাঝি সময়ে এই ধান কাটা শুরু হবে । ফলনও ভলো হবে বলে হাওর পারের কৃষকরা জানান।