নেত্রকোনার হাওর উপজেলায় ডুবন্ত সড়কের পর এবার নির্মিত হলো ডুবন্ত খাল ঃ বোরো মৌসুমে জমিতে পানি সেচ সুবিধার জন্য পানি সংরক্ষণ খাল খনন কৃষকদের মাঝে নতুন আশাবাদ

শুষ্ক মৌসুমে হাওর এলাকায় রোবো জমিতে পানি সরবরাহরে জন্য পানি উন্নয়ন বো্র্ড কতৃক নির্িমতি জলাধার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের জন্য ডুবন্ত পাকা সড়ক নির্মিত হলেও এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করেছে ডুবন্ত খাল। বর্ষাকালে এই সমস্ত খাল পানির নীচে চলে যাবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানি হাওর থেকে চলে যাবার সাথে সাথে খালগুলো ভেসে উঠবে, আর খালে থাকবে প্রচুর পানি। আর এই পানি ব্যবহার করা হবে বোরো জমিতে সেচ কাজে। ইতিমধ্যে ৫টি খাল খনন শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বড় হাওর উপজেলা হিসাবে পরিচিত মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে আগামী বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ সুবিধার জন্য পানি সংরক্ষণ করতে ৭টি খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথমবারের মত এই ধরণের খাল খনন প্রক্রিয়াকে স্থানীয় লোকজন সাধুবাদ জানিয়েছেন। বোরো আবাদে এটি তাদের জন্য নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে ৫টি খাল খনন কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বোরো আবাদে যাতে পানি সংকট না হয় সেজন্য পানি সংরক্ষণের জন্য এই খালগুলো খনন করা হয়। যেখানে খালগুলো খনন করা হচ্ছে সে সমস্ত এলাকাগুলো হলো, বৈঠাখালি, ভাটাপাড়া, মল্লিকপুর, ঘোরাউত্রা, সাতমাধলই, জনটুনাই এবং ভেলাখালি। যে সমস্ত খালের খনন শেষ হয়েছে সেগুলো হলো, মল্লিকপুর, ঘোরউত্রা, সাতমাধলই, বৈঠাখালি এবং ভাটাপাড়া। বাকি খাল দুটো আগামী শুস্ক মৌসুমে শেষ হবে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ৭টি খাল খনন করা হচ্ছে। এই ৭টি খালের মোট দৈর্ঘ হচ্ছে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। তিনি আরো বলেন, এই খালগুলোর সুবিধা হলো, বর্ষার সময় হাওরের এই খালগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। কিন্তু শুকনো মৌসুমে হাওর থেকে পানি সরে গেলেও এই সকল খালে পানি সংরক্ষিত থাকবে এবং বোরো জমিতে সেচ দিতে পারবে।
মোহনগঞ্জের ৪নং মাঘান সিয়াদার ইউনিয়নের বড়বেতাম গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম এবং মল্লিকপুর গ্রামের মুখলেছ মিয়া এবং রাজন সরকার খাল খনন নিয়ে বলেন, এই খাল খননের কারণে আগামীতে তাদের বোরো আবাদে আগাম পানির জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে না। খালে সংরক্ষিত পানি দিয়ে বোরো জমিতে সেচ যেমন দিতে পারবে, তেমনি খরচও কম হবে। পানির জন্য আর সমস্যা হবে না। তারা এজন্য পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তারা আরো বলেন, খালগুলো প্রশস্ত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশী হবে। বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষের ও বাড়তি সুবিধা হবে। তবে এই সমস্ত খাল থেকে সেচের জন্য পানি নিতে ভবিষ্যতে যাতে কোন রকম সমস্যা না হয় সেজন্য খালগুলো সরকারিভাবে তদারকি করতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
এই ব্যাপারে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, হাওরে বোরো আবাদেও জন্য খাল কেটে পানি সংরক্ষণ একটি ভালো উদ্যোগ। এই খননকৃত খাল থেকে সকল কৃষক যাতে সেচের পানি নিতে পারে সেজন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসন এই ব্যাপার দেখাশোনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।