নিলামে স্কুল ভবন বিপাকে শিক্ষার্থী ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাশ শুরু

বরগুনায় নিলামে স্কুল ভবন বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, বিকল্প শেল্টার নির্মাণ করে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা যায়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা (দ.) প্রতিনিধি

বরগুনা জেলার অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত হওয়ায় ভবনগুলো নিলামে বিক্রি হয়েছে। ফলে কয়েকদিন আগে ভেঙে ফেলা হয় ভবনগুলো। নতুন ভবনের কাজ কবে শুরু হবে তাও জানেন না শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এদিকে ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলছে। এতে বিপাকে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বরগুনা জেলার অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৯ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নিলামে বিক্রি করা হয়েছে ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে।

বরগুনা শহরের চরকলোনী এলাকার সরকারি হামিদিয়া প্রাথমিক বিদ্যলয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, নিলামে বিক্রী হওয়া দুইটি স্কুল ভবন ভাঙার কাজ চলছে। পাঠদানের বিকল্প কোন ভবন সেখানে নেই। ছোট্ট একটি টিনের ঘর থাকলেও সেখানে পাঠদানের কোন ব্যবস্থা নেই। স্কুলটির শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণিতেই ৭৮ জন এবং সব মিলিয়ে ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভবনশূন্য এসব বিদ্যালয়ে কীভাবে পাঠদান করা হবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল।

চরকলোনী হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত শুধুমাত্র বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন নিলামে দেওয়া হয়েছে সপ্তাহ খানেক আগে। নিলামে কিনেই ক্রেতারা সব ভবন ভাঙ্গার কাজ সবেমাত্র শুরু করেছেন। চরকলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি অ্যাড. সেলিনা হোসেন বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ পুরাতন ভবন নিলামে দেওয়া হলো মাত্র সাত-আট দিন আগে। এসব বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে বহুবার যোগাযোগ করেছি, তারপরেও যথাসময়ে তা করাতে পারিনি। ফলে এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষকরাও।

বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুপতি মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইঠা লবনগোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ ইটবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, নিলামক্রেতাদের কেউ পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেছেন, কেউবা এখনও তা ভাঙ্গার কাজে ব্যস্ত। বিদ্যালয়সমূহের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় ব্যব স্বাপনা কমিটি এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে নতুন করে ভবন নির্মাণে যে দীর্ঘ সময় লাগবে, সে পর্যন্ত কীভাবে পাঠদান করা হবে, এখনও সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি তারা।
পাথরঘাটার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম হায়দার জানান, তার উপজেলায় কমপক্ষে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ভবন নেই। ক্ষুদ্র মেরামতের জন্যে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে এসব বিদ্যালয়ে বিকল্প টিনশেড ঘর তোলা হয়েছে। তবে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব বিদ্যালয়ে কীভাবে কোন কৌশলে পাঠদান করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা এখনও তারা পাননি। একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে জেলার অন্যান্য উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) এমএম মিজানুর রহমান বলেন, আমরা জেলার সব স্কুল পরিদর্শন করছি। উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আমাদের নিয়মিত সভা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে পাঠদান করা হবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি বলেও তিনি জানান। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া শারমিন জানান, ‘ভবনশূন্য বিদ্যালয়গুলোতে শিগগির অস্থায়ী ঘর তুলে দেওয়া হবে যাতে সেখানে স্বাস্থ্য’বিধি মেনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’ বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, এসব সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যেই আমরা একাধিকবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি, সভা করেছি। বিকল্প শেল্টার নির্মাণ করে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা যায়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।