বাড়ি প্রচ্ছদ নিকলীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন ,ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা

নিকলীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন ,ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় এবার মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরাও। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এ আলু যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, গাজিপুর, টাংঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরের এবার মিষ্টি আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২৫ একর। চাষ হয়েছে ৮০০ একর। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন চাষিরা। তবে জাতের আলুর ফলনই বেশি হয়েছে বলে জানান আলু চাষিরা।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , উপজেলা বিভিন্ন হাওরে অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে থেকে শুরু হয় মিষ্টি আলুর চারা বপন। ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে থেকে মিষ্টি আলু মাটির নিচে পরিপক্ক হয়। আর পুরো চৈত্র মাস আলু তোলায় ব্যস্ততা থাকবে চাষিরা ও পরিবারের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলার মিষ্টি আলুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত সদর ইউনিয়নের বাইরচর, বরুলিয়ারচর, পাগলারচর ও পূর্বগ্রাম চরে গিয়ে দেখা গেছে, খেতজুড়ে চলছে মিষ্টি আলু তোলার উৎসব। রোদের তেজ উপেক্ষা করে পুরুষেরা কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে আলগা করছেন। আর মহিলা ও শিশুরা আলু কুরিয়ে এক জায়গায় স্তুূপ করে রাখছেন। মিষ্টি আলু নিতে আসা ব্যাপারিরা খেতে বসেই আলু মেপে বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে নিয়ে রাখছেন। সন্ধ্যার সময় ট্রাকে করে এসব দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাবে।
নিকলী সদর ইউনিয়নের মীরহাটি গ্রামের কৃষক শাজাহান মিয়া(৬০) বলেন, এ মৌাসুমে দুই একর (১০০শতাংশে) জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। প্রতি একরে ২৫০ মণ করে দুই একর জমিতে ৫০০ মণ মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বাজারে দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। প্রতি মণ মিষ্টি আলু পাইকারি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। একই গ্রামের কৃষক আবু সালেক (৫৫) তিন একর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা। একই ইউনিয়নের চামারটুলা গ্রামের কৃষক জালার উদ্দিন (৫০), মিয়া হোসেন (৫২), একিন আলী (৪৮) বলেন, আগে এসব জমিতে বাদাম ও মিষ্টি লাউ করতাম। এতে লাভ হাতো না। পরে গত বছর দেখি আমার সাথের জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করে অনেকেই লাভবান হয়েছে। এ বছর আমরা মিষ্টি আলু চাষ করে লাভবান হয়েছি। আগে যেখানে বাদাম ও মিষ্টি লাউ করে লোকসান হতো। এখন লাভের মুখ দেখে আমরা খুশি। পূর্বগ্রামের কৃষক সামছুউদ্দিন (৫৫) বলেন, আমি এ বছর দেড় একর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। এতে লাভ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করতে আমাদের কোনো কষ্ট করতে হয় না। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে জমি থেকে আলু তোলার পর জমিতেই বিক্রি করে দেয়। পরে পাইকাররা এ আলু বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে জমা করে। সন্ধ্যার সময় ট্রাক ভরে আলু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। যদি এলাকায় একটি হিমাগার থাকতো তবে মিষ্টি আলুগুলো হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ আরো বেশি হতো। এখন তো পচনের ভয়ে কম দামেই বিক্রি করে দিচ্ছি। ঢাকা জুরাইন থেকে আসা এক মিষ্টি আলুর পাইকার কবির মিয়া বলেন, নিকলীর মিষ্টি আলুর চাহিদা বেশি। কারন ওই আলুগুলো বালু মাটিতে হওয়ায় মিষ্টি হয় খুব বেশি। ওই মিষ্টি আলু গুলো ঢাকায় ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। চৈত্র মাস পর্যন্ত এ উপজেলা থেকে আলো নেওয়া যায়। এরপর এলাকায় আর আলু থাকে না।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বছর মিষ্টি আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জমির অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবং বর্তমান বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।