নাগেশ্বরীতে জলাবদ্ধতায় পচে গেছে কাউনের ক্ষেত

পচে যাওয়া কাউন

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

নাগেশ্বরীতে অতিবৃষ্টি ও ভাসা পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলীয় নিচু জমিতে। কোথাও কোথাও ডুবে গেছে সবজি ও শস্যক্ষেত। তলিয়ে গেছে এসব জমিতে লাগানো কাউন ক্ষেতও। নষ্ট হয়ে গেছে ফসল।

ভরা বর্ষায় গত ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পানি জমে নিচু জমিতে। অপরদিকে প্রবাহমান দুধকুমর, ফুলকুমর, ব্রহ্মপুত্র নদ ও গঙ্গাধর, শংকোস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুকুল ছাপিয়ে তীরবর্তী জমিতে ঢুকে পড়ে পানি। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ডুবে যায় অনেক সবজি ও শস্যক্ষেত। পানিতে তলিয়ে যায় সেখানে লাগানো কাউন ক্ষেত। এরপর বৃষ্টি কমলেও নদীতে পানি প্রবাহের উচ্চতা বেশি হওয়ায় নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামেনি। এতে ফসল ঘরে ওঠার আগ মুহূর্তে তলিয়ে যাওয়া কাউনের শীষে পচন ধরে। এ অবস্থায় তা কেটে কিছু ফসল ঘরে তোলে কৃষক।

কচাকাটা ইউনিয়নের গঙ্গাধর নদী তীরবর্তী টংকার চর এলাকার কৃষাণী  ফিরোজা বেগম জানান, পানিতে ডুবে গেছে তার দুই বিঘা জমির কাউন ক্ষেত। পানির নিচে হাত ডুবিয়ে কিছুটা কাটলেও বাকিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ফসল ঘরে তুলতে পাড়লে বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৫ মণ কাউন পাওয়া যেত। যার বর্তমান বাজার মূল্য মণ প্রতি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। একই এলাকার কৃষক উমর আলী জানান, এবার তিনি তার ৩ বিঘা জমিতে কাউন চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৭০ ভাগ কাটতে পারলেও বাকিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। শৌলমারী এলাকার আব্দুল মালেক জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তার দেড় বিঘা জমির কাউন কাটতে পারেননি। এছাড়াও নারায়নপুর ইউনিয়নের ঢাকডহর, চর সারীসুরি, চৌদ্দকুড়ি, বেরুবাড়ি ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ি, বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ফান্দের চর এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে কাউনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, এবার উপজেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে কাউন আবাদ হয়েছে। বেশির ভাগ কর্তণ হয়ে গেছে। এর মাঝে একেবারে চরাঞ্চলের কিছু জমির আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে।