নাগেশ্বরীতে অপরিপক্ক পাট কেটে ফেলছে কৃষক জলাবদ্ধতা ও বন্যাভীতি

অপরিপক্ব পাট কেটে ফেলেছেন চাষী

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

নাগেশ্বরীতে কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পানি জমেছে পাটক্ষেতে। জলাবদ্ধতায় পাটের আঁশ পরিপক্ক হওয়ার আগে কেটে ফেলছে কৃষক।

ভরা বর্ষায় গত সাত দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে পানি জমেছে নিচু জমিতে। বৃদ্ধি পেয়েছে দুধকুমর, ফুলকুমর, ব্রহ্মপুত্র নদ, গঙ্গাধর ও শংকোস নদীর পানি। কোথাও এসব নদ-নদীর দুকুল ছাপিয়ে চরাঞ্চলের নিচু জমিতে প্রবেশ করেছে পানি। বৃষ্টি ও ভাসা পানিতে সেসব জমিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। চরাঞ্চলীয় এসব জমিতে লাগানো পাটক্ষেতে এখন প্রায় হাটুপানি। কয়েকদিন পানি জমে থাকলে পানির উচ্চতায় অবাঞ্ছিত শেকড় বেরিয়ে পাটগাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গত বছরের বন্যায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ আশঙ্কায় পাটের আঁশ পরিপক্ক হওয়ার আগে তা কেটে জাগ দিচ্ছেন কৃষক। এতে ফলন কম ও আঁশের গুনগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

উপজেলার কেদার ইউনিয়নের কাজিয়ারদারা এলাকার কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, তার ক্ষেতের পাট গাছের ছাল এখনো শক্ত হয়নি। ইতিমধ্যে ক্ষেতে পানি উঠেছে। এ অবস্থায় কয়েকদিন থাকলে পাট গাছের গোড়া পঁচে মরে যাবে। তখন পাট খড়ি ছাড়া কোন কাজে আসে না। তাই পরিপক্ক হওয়ার আগে পাট কাটছি। এতে লাভ হবে না শুধু খরচ উঠবে। শিবেরহাট গ্রামের আজিবর রহমান বলেন, নিচু জমিতে পানি জমেছে। তাই পাট কেটে নিচ্ছি। গতবার বন্যার জন্য পাট কাটতে পারিনি। কচাকাটা ইউনিয়নের তরীরহাট এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, ক্ষেতের পাশে গংগাধর নদী। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এলাকার নিচু জমি পানিতে ভরে গেছে। ক্ষেতে পানি উঠেছে। আর একটু পানি বাড়লে আর পাট কাটা যাবে না। তাই পাট কাটছি।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী এবার উপজেলায় মোট ২ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ১৩ হেক্টর পাট কাটা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাটের মধ্যে ২০ ভাগ অপরিপক্ক। ইতিমধ্যে ৩০ হেক্টর পাট পানিতে তলিয়ে গেছে।  উল্লেখ্য পাট পরিপক্ক হতে বপন থেকে ৪ মাস সময় লাগে। তখন বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ পাট উত্পাদন হয়। এবার পরিপক্ক না হওয়ায় বিঘাপ্রতি ৩ থেকে চার মণ পাট কম পাওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, এবার উপজেলায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে হেলে পড়া এবং বন্যার পানি প্রবেশ করা ক্ষেতের পাট এক সপ্তাহের মধ্যে কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেতের পাট কিছুটা অপরিপক্ক থাকলেও কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।