দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌপথ কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সরকারের কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় বৃহত্তম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঢাকা ও ঘরমুখো মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সকল বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন উপায়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ফেরিতে পারাপার হতে দেখা গেছে। আসা যাওয়ার এই প্রতিযোগিতায় যাত্রীদের অনেকেই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থবিধি মানতে দেখা যায়নি ।এতে করে সরকারের করোনা সংক্রমনরোধে কঠোর অবস্থান ভেস্তে যেতে বসেছে।
এদিক মহাসড়কে কড়া নজরদারিতে রয়েছে প্রশাসন, যাত্রীবাহী কোন যানবাহন দেখলেই আটকিয়ে নামিয়ে দিচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু এরপরেও মানুষ বিভিন্ন কৌসলে বিকল্পপথে ঘাট পাড়ি দিচ্ছে,গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে ফেরিঘাটে এসে ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। তাদেরকে কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সরকারের নির্দশনায় গত ২২ জুন থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ফেরিতেই পারাপার হচ্ছে মানুুষ।
শনিবার (২৬ জুন) দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল বেশি ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। অন্যদিকে ঢাকা থেকেও ফিরছে অনেক যাত্রী। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সড়ক মহাসড়ক এড়িয়ে গ্রামের ভিতর দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে ঘাটে আসছেন তারা।
বর্তমানে দৌলতদিয়ার ৪টি ঘাট সচল রয়েছে, এ চারটি ঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরিতে উঠছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রীরা ফেরিতে স্বাভাবিকভাবে পারাপার হচ্ছেন। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতেও পণ্যবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রী ও অন্য ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর জানান পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে মাহিন্দ্র, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে করে অনেকে ঘাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরনের গাড়ি দেখলে পুলিশ গতিরোধ করে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তিনি এ সময় আরো বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। মহাসড়কে মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, রিক্সা চলবে না এমন নির্দেশনা আমাদের কাছে এসেছে, আমরা কতৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের ( বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারি মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, আমাদের কতৃপক্ষের নির্দেশনা আছে পণ্যবাহী ট্রাক, জরুরি সেবার যানবাহন ছোট গাড়ি পারাপার হতে পারবে। কিন্তু এরপরও ফেরি ঘাটে ভেড়ার সুযোগে কিছু যাত্রী উঠে পরছে, গতকালের চেয়ে আজ শনিবার ঢাকা থেকে মানুষ বেশী আসছে এতে আমাদের কিছু করার থাকছে না। তিনি আরো জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪টি ঘাট দিয়ে বর্তমানে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে।