দিনাজপুরে ৫’শ কোটি টাকার আম উৎপাদনের সম্ভাবনা

বীরগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর গ্রামের একটি আম বাগানে আমের মুকুল

 দিনাজপুর প্রতিনিধি

লিচুর মুকুলের কিছুটা বিপর্যয় দেখা দিলেও দিনাজপুরের সর্বত্রই আমগাছগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে মুকুলে। বাগানগুলোতে এখন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। কোন কোন গাছে আমের গুটিও ধরেছে। এখন বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষনাবেক্ষনের নানান পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমের ভাল দাম ও ফলন পাওয়ার জন্য। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন এমনটাই বলছেন কৃষি অফিস কর্মকর্তারা।
দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আমের উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করছেন বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা। ফলনে কোন বিপর্যয় না ঘটলে জেলায় ৫’শ কোটি টাকার আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। আবার অনেক ব্যবসায়ীরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানীর চিন্তা-ভাবনা করছেন এবং সেই লক্ষ্যে ভালো ফলন পেতে এবং সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দিনাজপুরের বিরল, সদর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, কাহারোল ছাড়াও দিনাজপুরের সকল উপজেলায় আম চাষ হচ্ছে। হিমসাগর, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে দিনাজপুরে।
এবার মানসম্মত ফলনে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে নবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। বাগানে চলছে আমের মুকুল আটকে রাখতে পরিচর্যাসহ ঔষধ স্প্রে-করণ। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে আম রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনাজপুরের আম বিক্রি হয়। নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদন করে বাজারজাতকরণে নবাবগঞ্জে শতাধিক আমচাষীর সমন্বয়ে ২০১৬ সালে ‘মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লিমিটেড’ গঠিত হয়েছে। ঋন সুবিধাসহ সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে এ অঞ্চলের আম বিদেশে রপ্তানী করা যেতে পারে বলে জানান মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান।
মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘আমার নিজেরই ১৭ বিঘা জমিতে আম চাষ করছি। ভাল ফলনের আশাও করছি। সব আম বাগানে এসেছে সম্ভাবনাময় মুকুল। নিরাপদ, মানসম্মত ফল উৎপাদনে পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবাবগঞ্জেই ৪০৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এখানে প্রচুর পরিমাণে হিমসাগর, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪ জাতের আমই চাষ হয়। এ উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় ৮ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের আম মান-সম্মতভাবে উৎপাদন করে বিদেশে যেন পাঠানো সম্ভব হয় এই লক্ষে প্রশাসনের সহায়তাসহ সার্বিক কামনা করেন।’
উল্লেখ্য, বিভিন্ন বাগানে আম চাষ হচ্ছে তাই নয়। এছাড়াও কিছু কিছু বাড়ির উঠানে কিংবা প্রতিষ্ঠানের সামনেও আম গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। জেলায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে এবং উৎপাদন হতে পারে প্রায় এক লাখ টন আম।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, এখন আর আমের ‘অন-ইয়ার’ বা ‘অফ-ইয়ার’ নেই। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ফলে মান্ধাত্যা আমলের সেই কথা উঠে গেছে। আমগাছে এবছর প্রচুর মুকল আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুকুল আবহাওয়া থাকলে এবার দিনাজপুর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশী জমিতে আমের বাগান রয়েছে এবং প্রাকৃতিক কোন প্রতিকুল অবস্থার সৃষ্টি না হলে এই জেলায় এবার ১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশী আম উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, ফলন ভালো হওয়ার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তৌহিদুল ইকবাল জানান, গতবছর ভরা মৌসুমে করোনা পরিস্থিতির জন্য লক ডাউন ছিলো। এ কারণে পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে আশানুরূপ দাম পায়নি বাগান মালিকরা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং সবকিছু চালু হয়ে যাওয়ায় বাগান মালিকরা ভালো দাম পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।