দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেছে এলাকাবাসী।
বীরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে সুজালপুর ইউনিয়নের মুড়িয়ালা হতে ভাদুরিয়ার মোড় হয়ে মদনপুর গ্রামে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে মাটি ধ্বসে রাস্তা ভেঙে গেছে। কোথাও আবার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় কাঁদা মাটির কারণে চলাচলে ভোগান্তির শিকার এই এলাকার মানুষেরা।
মানকিরা, রনগাও, ভাদুরিয়া এই ৩ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে নিজেরাই উদ্যোগে প্রায় এক কিলোমিটার চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তা সংস্কার করেছে। গত এক সপ্তাহ থেকে ২০-২৫ জন গ্রামবাসি রাস্তা সংস্কারে কাজ শুরু করছেন। সংসারে কাজের পাশাপাশি পালাক্রমে প্রতিদিন ৫ জনের একটি দল রাস্তাটি সংস্কারের কাজে অংশ নেয়। এ কাজ শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিন দেখা যায় বিপুল উৎসাহে গ্রামের লোকেরা কেউ রাস্তার কাদা টেনে সেখানে ইটের টুকরা ফেলছেন। অনেকে সেই ইটের টুকরা গুলো হাতুড়ির আঘাতে ভেঙ্গে সমান করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, অনেক কষ্ট করে ক্ষেতে ফসল ফলাই কিন্ত ফসল ঘরে তুলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাস্তার কারনে। রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কারণে এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে। নির্বাচিত জনপ্রতিদের কাছে অনেকবার ধর্না দিয়েছি। কোন কাজ হয়নি তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই সংস্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছি।
মোঃ আছর উদ্দিন জানান, গ্রামের সবাই সাধ্যমতো চাঁদা দিয়েছি। প্রায় ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া সবাই স্বইচ্ছায় শ্রম দিয়ে সংস্কার কাজে অংশ নিয়েছেন।
এই উদ্যোগে প্রদিপ রায়, চান মিয়া মোঃ মুনসুর আলী, দিনবন্ধু রায়, সমারু, সুরুজ আলী, মোঃ রহিম, সুবাস, আহসান হাবিব, মমিনুল, কামাল হোসেন, আরমানসহ আরও অনেকে তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে সুজালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহেশ চন্দ্র রায় বলেন, সীমিত বরাদ্দ থাকায় এ রাস্তার সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে সংস্কারের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, অপরদিকে ১০নং মোহনপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কাশিপুর মৌজায় তিন দেউনিয়া খানসামা রোড থেকে কেএনএ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে সাঁওতাল বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এবং কেএনএ স্কুল থেকে কৃষ্ণনগর গুচ্ছ গ্রাম হয়ে মোহনপুর পর্যন্ত ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এরপরেও কতিপর বালুদস্যু এই কাঁচা সড়ক দিয়ে ট্রাক্টরে করে বালি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় বহু গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফেরদৌস আহমেদ কে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের নিকট গ্রামবাসী অভিযোগ করেছে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য। এলাকাবাসী লিখিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের নিকট এই সড়কটি গ্রামীন অবকাঠামো প্রকল্পের অধিনে পাকাকরণের দাবি জানানো হলে তিনি এলাকাবাসীকে আসক্ত করেন। বর্ষার পর পরই এই কাঁচা সড়কগুলো পাকাকরণ করা হবে।