বাড়ি গ্রামবাংলা টেকনিশিয়ান না থাকায় চালানো যাচ্ছে না এক্স-রে মেশিন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য...

টেকনিশিয়ান না থাকায় চালানো যাচ্ছে না এক্স-রে মেশিন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা নতুন এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার হচ্ছে না

রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাহারুল আলম বলেন, এক্স-রে মেশিন পরিচালনায় টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্যপদটি পূরণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হলেও কাজ হচ্ছে না।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে চালানোর টেকনিশিয়ান নেই প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। এ কারণে নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটিও পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে নতুন একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয় রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু স্থাপন করা হলেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
হাসপাতালে এক্স-রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত রোগী বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে তাদের এক্স-রে করিয়ে আনতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা গেছে, ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন একটি আধুনিক এক্সে-রে যন্ত্র দেওয়া হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় যন্ত্রটি আর ব্যবহৃত হয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ফের আরও একটি ডিজিটাল নতুন এক্স-রে যন্ত্র এসেছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য। কিন্তু এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখনও এটি ব্যবহারের জন্য কোন লোক দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জন রোগীর এক্স-রের প্রয়োজন হয়।

উপজেলার বামনী ইউনিয়নের মুনছুর আহম্মেদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের সমস্যা নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দ্রুত এক্স-রে করতে বলেন। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করিয়ে আনি। অথচ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন দিয়ে করালে মাত্র ৫৫ টাকা খরচ হতো।

রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাহারুল আলম বলেন, এক্স-রে মেশিন পরিচালনায় টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্যপদটি পূরণের জন্য গত এক যুগ ধরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এরপরও কোনো লাভ হচ্ছে না। টেকনিশিয়ান না থাকায় আগের মেশিনটিও নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন মেশিনটি স্থাপন করা হলেও রোগ নির্ণয়ের কাজে এখনও লাগেনি। মেশিনটি চালু হলে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এক্স-রে করাতে পারতেন।