ঝিনাইদহে নিম্নআয়ের মানুষের কাজ নেই করোনা ও লকডাউনের প্রভাব

 লকডাউনে বন্ধ দোকান পাট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দফায় দফায় টানা লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশার ’দিন আনা দিন খাওয়া’ শ্রেণির মানুষ। তাদের কাজ নেই, আয়ও নেই। এসব মানুষ প্রতিদিন কাজের শেষে মজুরি পায়। তা দিয়ে চাল ডালসহ অন্য সামগ্রী কিনে দিনের শেষে বাড়ি ফেরে। লকডাউনে চরম সংকটে পড়েছে তারা।

ঝিনাইদহ জেলায় আছে কয়েক হাজার হোটেল শ্রমিক। তারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। কাজ না করলে মজুরি নেই। ছোট্ট হোটেল মালিক নিমাই চন্দ্র বলেন, তার হোটেলে চার জন শ্রমিক কাজ করে। খোরাকিসহ দৈনিক করো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। হোটেল বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কাজ নেই। তারা কষ্টে আছে। হোটেল শ্রমিক কজ্জোল বলেন, লকডাউন হলে কাজ থাকে না। আয় রোজগার হয় না।  পরিবার পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। ধারদেনা করে চলছে। ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই ও রং করে জেলার ৬ উপজেলায় অন্তত ২০০ নিম্নবিত্তের মানুষ জীবিকা অর্জন করে আসছে। এদের একজন কমল দাস বলেন, করোনা শুরুর পর থেকে তাদের আয় কমে গেছে। আগে প্রতিদিন  ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আয় হতো,্ ভালই চলতো। লকডাউন শুরুর পর কাজ নেই। লুকিয়ে কাজ করে ৫০-৬০ টাকার বেশি আয় হয় না। খুব কষ্টে আছে তাদের সম্প্রদায়। সরকার থেকে একবার মাত্র ১০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। তা দিয়ে ৪ দিন চলেছিল। এখন ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।

করোনায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্কুল কলেজ বন্ধ। বন্ধ রয়েছে জেলার তিন শতাধিক কিন্ডার গার্টেন স্কুল। জেলা কিন্ডার গার্টেন  স্কুল এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোঃ বজলুর রহমান বলেন, স্কুলগুলোতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা কাজ করেন। কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সরকার থেকে কোন অনুদান দেওয়া হয় না।  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত মাসিক বেতন আয়ের একমাত্র উত্স। স্কুল বন্ধ থাকায় কোন  আয় নেই। ফলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কোন বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, তারা এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পাননি।

বাস মিনিবাসের ড্রাইভার হেলপারদের দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি দেওয়া হয়। গাড়ি চললে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুজ্জামান খোকন বলেন,  লকডাউনে অন্তত দেড় হাজার বাস মিনিবাসের ডাইভার-হেলপার বেকার হয়ে পড়েছে। একবার ৩০৪ জন শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল ও ৫০০ করে টাকা টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরিবহন শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। তারা এক অসহনীয় জীবন যাপন করছে। ফুটপাতে যারা চটপটি ফুসকা বিক্রি করে সংসার চালাতো তারাও বেকার হয়ে পড়েছে। ফুচকা বিক্রেতা জিল্লুর রহমান জানান, লকডাউন শুরু পর থেকে তার আয়ও বন্ধ। সংসার চলছে না।

লকডাউনে সংকটে পড়েছে হতদরিদ্র আদিবাসি সম্প্রদায়। হাট বাজারে পুরুষরা কুলির কাজ করে। আর মেয়েদের কেউ কেউ কুঁচে মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করে থাকে। শৈলকুপা উপজেলা বেনীপুর গ্রামের আদিবাসি  সুকুমার সরদার বলেন, তাদের কাজ নেই।  কুঁচে মাছ বিদেশে যেত। করোনা শুরুর পর কুঁচে মাছ বিদেশ যাচ্ছে না। তাই ক্রেতাও নেই। মেয়েদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের গ্রামে ৬০টি আদিবাসি পরিবার সংকটে পড়েছে। একবার সরকার থেকে ১০ কেজি করে চাল পান তারা । তা দিয়ে ৪- ৫ দিন চলেছিল। ঘরে জমানো টাকাও শেষ হয়ে গেছে। কেউ কেউ এখন ধার দেনা করে চালাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান বলেন, সব দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে কিছু কিছু চাল ও টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও ত্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।