ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধ ভাবে মানুষ পারাপারে কয়েক’শ দালাল সক্রিয়, দেশ জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সিন্ডিকেট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে যাতায়াত বেড়ে গেছে। আর মানুষ পারাপারের দালালরা দেশ জুড়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সুদূর খাগড়াছড়ি থেকেও মানুষ পাচারের জন্য মহেশপুর আনা হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাতায়াতের কারণে সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েছে সীমান্ত এলাকায়। দালাল সিন্ডিকেট দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এনে সীমান্ত পার করে দিচ্ছে। সীমান্তের ওপারের মানুষ পাচারের দালাল সিন্ডিকেটের সাথে তাদের যোগায়োগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে মানুষ নিয়ে আসছে। বিজিবি’র হাতে যে সংখ্যক ধরা পড়ছে তার কয়েক গুন বেশি বিজিবি’র টহল দলের নজর এড়িয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে যাতায়াত করছে। এখন মাঠে পাট ক্ষেত থাকায় লুকানো সহজ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার যাদবপুর সীমান্ত এলাকার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ভারতে যাওয়ার সময় নারি, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জরকে আটক করে বিজিবি। বৃহষ্পতিবার মাটিলা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ কালে ৩ জনকে আটক করে বিজিবি।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় ভারতের সাথে ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তারমধ্যে ১১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাটাতারের বেড়া নেই। মুলত কাটাতারের বেড়াহীন সীমান্ত দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে যাতায়াত করে। বিজিবি’র ঝিনাইদহের খালিশপুর – ৫৮ ব্যাটালিয়ন সুত্রে জানা যায়। চলতি বছরের ১ জানুয়রি থেকে জুনের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত অবৈধ ভাবে ভারতে যাতায়াতে কালে ৯’শ জনকে বিজিবি আটক করেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় বেশি সংখ্যক আটক হয়েছে। আসার পথে গত দু মাসে শ’ খানেক আটক হয়েছে। গত বছর দেড় হাজার আটক হয়েছিল।
ভারতে থেকে পরিবার নিয়ে অবৈধ ভাবে আসার পর বিজিবি’র হাতে আটক নড়াইলের কালিয়ার সাজ্জাদ খোন্দকার জানান, কয়েক বছর আগে তারা পরিবার নিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যান। সেখানে মুম্বাই শহরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। স্ত্রী ঝি’র কাজ করতেন। করোনার কারনে কাজের অভাব দেখা দেওয়ায় দালাল ধরে দেশে ফিরেন। ভারতের দালালদের মাথা পিছু ১৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়।। গভীর রাতে সীমান্তে আসার পর বিএসএফ আলো নিভিয়ে কাটাতারের বেড়ার গেট খুলে দেয়। ওপারের দালালরা এপারের দালালদের হাতে তুলে দেয় তাদের। দালালারা এপারে এনে টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। এরপর মাটিলা মাদ্রাসায় বসিয়ে রেখে চলে যায়। দিল্লী, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে অনেক বাংলাদেশি মানুষ আছে। পুরুষরা পরিছন্নতা কর্মী, রাজমিস্ত্রীসহ অন্যান্য নিচু কাজ করে। মেয়েরা বাসায় জি’র কাজ করে। আবার পাচার হয়ে যাওয়া নারিদের সেখানে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সুরাট থেকে পালিয়ে আসা এক তরুনী জানায়, ভাল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভারতে পাচার করা হয়। প্রথমে একটি গারমেন্টস কারখানায় তাকে কাজ দেওয়া হয়। এরপর তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রতি দিন ১০ – ১২ জনের অত্যাচার সইতে হতো। সেখানে আরো বাংলদেশি মেয়ে আছে। অনেক চেষ্ঠার পর সে নরক থেকে পালিয়ে কলকাতায় আসে। দালাল ধরে সীমান্ত পার হয়।
বিজিবি সুত্র জানায়, সীমান্তে গরুসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যারা পন্য চোরাচালের সাথে জড়িত ছিল তারা মানুষ পারাপার করছে। পারাপারে সময় তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। মহেশপুরের মানবাধিকার কর্মী আব্দুর রহমান জানান, মহেশপুর জুড়ে মানুষ পাচারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বর্তমানে মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ভারতে মানুষ পার করছে। সীমান্তে আনার পর তাদের হাতে নারিরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিজিবি’র খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেঃ কর্ণেল কামরুল আহসান জানান, মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় মানুষ পারাপারকারি দালালের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সারাদেশে এদের সিন্ডিকেট আছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাট ক্ষেত রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার পর পাট ক্ষেতের ভিতর দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে লোকালয়ে আসে। ধরা পড়লে সাজাও একেবারে কম। অবৈধ ভাবে সীমান্ত পারাপারের আইন আরো কঠোর করে সাজা বৃদ্ধির প্রস্তাব উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি আরো জানান। বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকায় অবৈধ ভাবে যাতায়াতকারিা ধরা পড়ছে।