জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিত্সক ও জনবল সংকট দুর্ভোগে রোগীরা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ও লোকবল সংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রথম থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১০২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে সেবা দিচ্ছেন ৫৯ জন। ৪৩টি পদ শূন্য রয়েছে। তারমধ্যে ডেপুটেশনে অন্যত্র রয়েছেন ৪ জন, বহিস্কৃত হয়েছেন এক জন। জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, অনেক সময় জরুরি বিভাগে মিলছে না ডাক্তার। চিকিত্সা বঞ্চিত হয়ে জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে রোগীদের। পাশবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলং ইউপি, আলীরগাঁও ইউপি এবং কানাইঘাট উপজেলার চতুল ইউপির রোগীরা জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসেন।

উপজেলার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, বাবুল মিয়া, ইন্তাজ আলী, খায়রুল ইসলাম, নাজমুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অনেটা বাধ্য হয়ে জেলা শহরে চিকিত্সা নিতে যেতে হচ্ছে রোগীদের, আবার কোন কোন সময় দায়িত্বরত চিকিত্সক রোগীকে চিকিত্সা না দিয়ে সিলেটে রেফার করে দেন।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত টিএইচও) ডাক্তার মমি দাস বলেন, ৪৩টি শূন্য পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, পার্শ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উল্লেখিত পদগুলোতে জনবল বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সেবা বৃদ্ধি পাবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক শাহেদ আহমদ বলেন, ইতোপূর্বে মন্ত্রী কয়েক দফা শূন্য পদের তালিকা চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ শূন্য পদের তালিকা এখনও প্রেরণ করেনি। যার ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ বলেন, বিভিন্ন সময় রোগীর স্বজনরা চিকিত্সা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শূন্য পদের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। রোগীদের চিকিত্সা এবং সরকারি ওষুধ পাওয়ার জন্য উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে।