জাতীয় পর্যায়ে দেশ সেরা মির্জাপুরের বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়॥ ১ এপ্রিল পদক তুলে দিবেন প্রধান মন্ত্রী

 মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে দেশ সেরা শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিসেস হোসনেয়ারা বেগম জানিয়েছেন। আগামী ১ এপ্রিল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্সুয়ালী যুক্ত হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনসহ সচিব ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন। ২০১৯ সালের জন্য এই বিদ্যাপিঠ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। টানা কয়েক বার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বত্র উৎসবের আমেজ।
আজ সোমবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে মির্জাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার মনোরম পরিবেশ, নিয়ম-শৃংখলাসহ শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৬০ জন। বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম, তার নের্তৃত্বে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের অক্লান্ত শ্রমের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এর আগে হোসনেয়ারা বেগম শিক্ষা ক্ষেত্রে মহিয়সী নারী পুরস্কার, মাদার তেরেসা এওয়ার্ডসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ভাল ফলাফলের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, নাচ, গান, শরীর চর্চা ও সাংস্কৃতিক অংগনেও উপজেলা, জেলা, অঞ্চল, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন এবং পুরস্কার লাভ করে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও মানউন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শিশুদের ঝুড়ে পরা রোধ, সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ এবং ট্যালেনটপুলে বৃত্তি লাভসহ কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্কুল নির্বাচিত করেছেন। বিদ্যালয়ে রয়েছে পাঠাগার, মুক্তিযুদ্ধ কর্নারসহ শিশুদের শিক্ষার জন্য মনোরম পরিবেশ।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ এবং এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশর দিন দিন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যেও আমরা বিদ্যালয়ের ফলাফল ও সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে একটি ভবন, খেলার মাঠ ও চারাপাশে বাউন্ডারী অতি জরুরী হয়ে পরেছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য বিদ্যালয়টির দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও মহা পরিচালক মহোদয় একটু নজর দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দেশের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠান। বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম ও তার নের্তৃত্বে শিক্ষক মন্ডলীর দক্ষ পরিচালনা ও কঠোর শ্রমের ফলে ফলাফলসহ সার্বিক দিক দিয়ে সুনাম অর্জন করে যাচ্ছে। এটা আমাদের মির্জাপুরবাসীর জন্য গৌরব। বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্ও হোসেন এমপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশ সেরা হওয়ার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগম। তার দক্ষ নের্তৃতে ও কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে এখানে পাঠদান করা হয়। ফলে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি পেয়ে দেশ সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।