জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-ওয়াশিংটন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং সংযোগ স্থাপনে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও ওয়াশিংটন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা জন কেরি।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। ওয়াশিংটনের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়াদানে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরত আসার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে প্রশমন, অভিযোজন ও স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি জন কেরিকে অবহিত করেন।

মোমেন ওয়াশিংটনের জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টাকে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে বর্তমান এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান। একইসঙ্গে তিনি গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন (জিসিএ) বাংলাদেশ আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

বৈঠকে জন কেরি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রতিষ্ঠাগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ ইস্যুটি সবার জন্য গুরত্বপূর্ণ নিরাপত্তার বিষয় হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন। মোমেন ও কেরি কোপ-২৬ প্লাটফর্ম এবং বহুপক্ষীয় প্লাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করাও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ২৭ জানুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেন জন কেরি। সেই ফোনালাপে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে একযোগে কাজ কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। মূলত ওয়াশিংটনের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতেই এ সফর।

সফরের প্রথম দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন মোমেন। আলাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানো, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত, করোনা পরিস্থিতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবাধিকার ও অভিবাসী ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

এর পরদিন মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেইস মেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি দেশটিতে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের বৈধ করতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানান। সবশেষ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন।