চোরের মায়ের বড় গলা

ভান্ডারিয়া( পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকৃত অগ্রাধিকার প্রাপ্তদের বঞ্চিত করে অনিয়ম,জালিয়াতি এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিস্ট অস্বচ্ছলদের নগদ প্রনোদনার অর্থ আত্মসাতের প্রেক্ষিতে বরখাস্ত হওয়া ভান্ডারিয়া উপজেলার লাইভস্টক ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট শিবলী রুবায়েত লিয়ন তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের মারধর,হয়রানী এবং হুমকী-ধামকি দিচ্ছেন। মারধরের শিকার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল আলিম হাওলাদার ও তার ছেলেরা আইনী সুরক্ষা চেয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডিতে তারা শিবলী রুবায়েত লিয়নকে এক নম্বর আসামী করেছেন। অন্যন্য আসামীরা হলেন লিয়নের আত্মীয়-স্বজন ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রনোদনার টাকা হাতিয়ে নেয়া কয়েকজন।
সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,বরখাস্ত হওয়া লাইভস্টক ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট শিবলী রুবায়েত লিয়ন উপজেলার ১ নং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঞ্চারখাল এলাকার বাসিন্দা। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় করোনাকালিন সময়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ণে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্পের(এলডিডিপি)জরুরী কর্মপরিকল্পনার আওতায় উপজেলার সুফলভোগী নির্বাচনের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা মোতাবেক ৫০৬ জনের তালিকা প্রনয়ন করা হয়। এই তালিকায় স্থান না পাওয়া আর্থিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত ২৫ জনের পক্ষে ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের আবু হানিফ হাওলাদার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ২৫ জনের মধ্যে ৫ নম্বর মো. আনোয়ার হোসেনের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ইউনিয়নে। বাকিদের অধিকাংশ তেলিখালী এবং অন্যরা ইকড়ি,ভিটাবাড়িয়া ,নদমুলা এবং কয়েকজন ভান্ডারিয়া সদর,গৌরীপুর,ধাওয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।অভিযোগে তারা বলেন,সুফলভোগীর তালিকায় স্থান পাওয়া ৫০৬ জনের মধ্যে ৮৫ জনের হাঁস,মুরগীর খামার বা ডেইরী খামার নাই। তালিকা প্রনয়নের সময় জালিয়াতি,প্রতারনা ও আর্থিক দুর্নীতিসহ অসততার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি খামারিদের পাওনা অর্থ ভ‚য়া ব্যক্তিদের নাম ও আইডি কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতি করেছেন। তারা অভিযোগপত্রে ’ভ‚য়া অস্বচ্ছল হাস-মুরগী ও ডেইরী খামারীদের’ নামের তালিকাও সংযুক্ত করেন। ফিল্ড অফিসার হিসাবে এই তালিকার সমন্বয় করেছিলেন ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট শিবলী রুবায়েত লিয়ন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট লিয়ন নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাড়ি ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঞ্চারখাল এলাকা এবং তার আত্মীয়-স্বজনসহ ১৫ জনের নাম অনিয়মের মাধ্যমে তালিকাভ‚ক্ত করেন। এই তালিকাভুক্তির পর ১৫ ’ভ‚য়া অস্বচ্ছল হাস-মুরগী ও ডেইরী খামারী’ আর্থিক প্রনোদনা সুবিধাও তুলে নেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা ভ্যাটেনারী সার্জন ডাঃ সোমা সরকার ও লাইভস্টক ফিল্ড অফিসারসহ মোট তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে চিহ্নিত বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিযোগের আংশিক সত্যতা পায়। পরে গত ২৫মে তদন্ত রিপোর্ট ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা ভ্যাটানারী সার্জন ডাঃ সোমা সরকার দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেন। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত লাইভস্টক ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট শিবলী রুবায়েত লিয়নকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত জুলাই মাসের শেষে দিকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে। অত:পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের ওপর প্রচন্ডভাবে ক্ষিপ্ত ও মারমুখী হয়ে ওঠেন শিবলী রুবায়েত লিয়ন। তিনি চাককুরীচ্যুতির পর আবদুল আলিম হাওলাদার ও তার ছেলেদেরকে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন এবং অন্যান্য যারা অভিযোগ করেছিলেন তাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে আসছেন।
এবিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সীমা রানী ধর জানান,যদিও আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি তবুও গত মাসের প্রথম দিকে উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভার সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মো.মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বিষয়টি সভায় উত্থাপণ করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্ত কমিটি বিষয়টির আংশিক সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করে। ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী ঘটনায় সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে শুনতে পেয়েছি।
এ বিষয়ে ওই সময়ে দায়িত্বপালনকারী পিরোজপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো.আমজাদ হোসেন ভূইঞার জানান,যদিও আমি এখন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মরত আছি। তবে ঐ বিষয়টি তৎসময়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা কার্যালয়ে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ আমাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন,উপজেলা কার্যালয় থেকে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ঘটনায় জড়িত লাইভস্টক ফিল্ড এ্যাসিস্টান্ট শিবলী রুবায়েত লিয়নকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছেন।এদিকে গতকাল মুঠোফেনে রিয়নের হাতে লাঞ্চিত ও মারধরের শিকার আবদুল আলিম হাওলাদারের ছেলে জানান, শিবলী রুবায়েত লিয়নকে শুধু চাকুরী থেকে বরখাস্ত করলেই হবেনা। এই প্রকল্প থেকে সে যে সরকারি দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তা উদ্ধার করে সুফলভোগীদের মাঝে বন্টনসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।