চকরিয়ায় টানা বর্ষণে বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি

লইখ্যার চর ইউনিয়নের পলাশ গেটে পানিবন্দি এলাকা

 চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল। উপজেলার চিংড়ি জোনের মত্স্য প্রকল্পসমূহ ভেসে যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় চলাচল করছে মানুষ।

সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপত্সামীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী শাখা কর্মকর্তা (এসও) জামাল মোর্শেদ। তিনি বলেন, রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে উজানে লামা-আলীকদমের পাহাড় থেকে পানি নিচের দিকে নেমে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপত্সীমার ৭ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর কর্মকর্তা জামাল মোর্শেদ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চকরিয়া উপজেলার বিশেষ করে উপকুলীয় অঞ্চলের অবস্থা নাজুক হতে পারে। মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন চকরিয়া উপজেলার বিএমচরের কইন্যারকুম সকালে ও কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা পয়েন্টে বিকালে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল সিকদার বলেন, ভারী বর্ষণে আমাদের এলাকার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশকিছু গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বেড়িঁবাধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৫/এ-৩ পোল্ডারের তিনটি পয়েন্টে ভাঙ্গা রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে যদি মেরামত করা না হয় তাহলে ইউনিয়নের প্রায় পনের হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হবে।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার নীচু এলাকার কয়েকটি গ্রাম ও তিনশতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। আটকে থাকা পানি যাতে দ্রুত নেমে যায় সেজন্য ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। কোণাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, ভারিবর্ষণে ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারিবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়িজোন তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ভারি বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে, সেজন্য উপকূলীয় এলাকার সব স্লুইসগেট খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।