কে হচ্ছেন রাবির ভিসি?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিয়মিত ভিসির (ভাইস চ্যান্সেলর) মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৬ মে। পরদিন ৭ মে থেকে ভিসির রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন দুই জন প্রো-ভিসি। প্রায় চার মাস অতিবাহিত হতে চলছে, এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভিসি নিয়োগ হয়নি। ফলে ১৯৭৩ এর অ্যাক্টে পরিচালিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এদিকে ভিসি নিয়োগ না হওয়ায়, কে হচ্ছেন রাবির পরবর্তী ভিসি? এ নিয়ে ক্যাম্পাস ও রাজশাহীজুড়ে চলছে সরব আলোচনা। সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বের ভিসি পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েক ডজন শিক্ষক।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাবির ভিসি পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন জন সিনিয়র অধ্যাপকের নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন- রাবির আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’র স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান; স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন পেলে উল্লিখিত তিন অধ্যাপকের যে কেউ হতে পারেন রাবির পরবর্তী ভিসি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ড. হাবিবুর রহমান নিজ বিভাগের সভাপতি, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ রাবির বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ১/১১-এ তিনি শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য রাবি শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। সূত্র জানায়, ড. হাবিবুর রহমানের পিতা ডা. ইয়াসিন আলী একাধারে ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আজীবন আপোষহীন ডা. ইয়াসিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। বঙ্গবন্ধুর এই ঘনিষ্টজন, দলের চরম দুঃসময় ১৯৭৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আমৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার নিজ বিভাগের সভাপতি ও ছাত্রউপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে বর্তমানে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের (আইইএস) পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন। সূত্র জানায়, ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার ১/১১-এ শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে কারাবরণ করেন। তিনিও আওয়ামী লীগ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তার বড়ভাই গোলাম মাহবুব সাত্তার মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। তিনি মহানগর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং রাবি ও মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি। এদিকে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস নিজ বিভাগের সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, ছাত্রউপদেষ্টা, সহকারী প্রক্টর, সিন্ডিকেট সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বেসরকারি জেডএইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান রাবির ভিসির দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করেন। ওইদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিসির রুটিন দায়িত্ব প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহাকে দেয়। পরে তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম প্রো-ভিসি পদে নিয়োগ এবং ভিসির রুটিন দায়িত্ব পান।