কিশোরগঞ্জে ব্রীজের পাটাতন ভেঙ্গে ভারী যান চলাচল বন্ধ

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ -তারাগঞ্জ সড়কের চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর নির্মিত একমাত্র বেইলি ব্রীজটির পাটাতন ভেঙ্গে গিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বালু বোঝাই দশচাকার জ্যাম ট্রাক বালুসহ ব্রীজে উঠলে ব্রীজটির পাটাতন ভেঙ্গে যায়। এ নিয়ে প্রায় ১০ বার ব্রীজের পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা ঘটল। ফলে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে।
শনিবার সকালে অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সড়কের বাহাগিলি ঘাটের চাঁড়ালকাটা নদীর উপর নির্মিত একমাত্র বেইলি ব্রীজটির মাঝখানের একটি পাটাতন ভেঙ্গে গেছে। ব্রীজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ৫ টনের অধিক মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ লিখে ব্রীজের দুই পাশে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেন । তারপরও একটি চক্র সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে দিনে রাতে সমানভাবে ওই ব্রীজের উত্তর দিক থেকে ১৫ থেকে ২০টি দশচাকার জ্যাম ট্রাকে চাঁড়ালকাটা নদীর খননকৃত বালু বোঝাই ট্রাক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একেকটি ট্রাকে বালুর পরিমান ৩০ থেকে ৩২টন।
বাহাগিলি ঘাট এলাকার বাসিন্দা আশুতোষ মহন্ত, আজিজার রহমান, একরামুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কিশোরগঞ্জ-তারাগঞ্জ সড়কের চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর নির্মিত ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সরকারী নদী খননের বালু দশচাকার জ্যাম ট্রাকে করে ব্রীজের উপর পরিবহন করায় শনিবার গভীর রাতে বিকট শব্দে ব্রীজটির মাঝখানের একটি পাটাতন ভেঙ্গে গেছে। অতিতাড়াতাড়ি ব্রীজটি দিয়ে বালুবাহী ট্রাকের যাতায়াত বন্ধ করা না গেলে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ সৈয়দপুর,কিশোরগঞ্জ,তারাগঞ্জ ও রংপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইটবাহী ট্রাক চালক আজিনুর ইসলাম বলেন, আমি সৈয়দপুর থেকে ইট নিয়ে কিশোরগঞ্জের উদ্দ্যেশে রওনা হই। কিন্তু এখানে এসে দেখি ব্রীজটির পাটাতন ভেঙ্গে গেছে তাই এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তাদিয়ে ঘুরে কিশোরগঞ্জে যেতে হবে।
নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তারাগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ সড়কের বাহাগিলি এলাকার বেইলি ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ৫ টনের বেশি মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ লিখে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে। ব্রীজটির পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়া এবং দশচাকার বালু বোঝাই জ্যাম ট্রাক চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লোক পাঠিয়ে ব্রীজের পাটাতন মেরামত করে জনগণের চলাচলের ব্যবস্থা করছি। এবং বালু বোঝাই ট্রাক যাতে ব্রীজে উঠতে না পারে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম বলেন, সরকারি নদী খননের বালু ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে শর্তানুযায়ী দশচাকার জ্যাম ট্রাকে করে বালু নিয়ে যাওয়ার কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সরকারি স্থাপনার ক্ষতি করে কেউ বালু নিয়ে যেতে পারবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।