শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২
২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল,
৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ,
শুক্রবার, রাত ২:৪০
বাড়ি জাতীয় কিডনি রোগীদের নিঃস্ব করছে ওষুধ- ডা. জাফরুল্লাহ

কিডনি রোগীদের নিঃস্ব করছে ওষুধ- ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘কিডনি রোগীদের নিঃস্ব করছে ওষুধ। সরকার চাইলেই এর দাম কমাতে পারে। ডায়ালাইসিসে প্রচুর খরচ। যা আমাদের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বহন করা খুবই কষ্টকর। এক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনই একমাত্র পথ। তাই সমাজের বিত্তবান ও দানশীল প্রতিষ্ঠানকে কিডনি প্রতিস্থাপনের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেড় লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কিডনি সমস্যা নিরসন করা সম্ভব নয়। প্রতি বছর হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি। দেশে বেসরকারিভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিডনি প্রতিস্থাপন হলেও সরকারিভাবে নানা অজুহাতে থেমে আছে। ২০১৯ সালে একটি ট্রান্সপ্ল্যান্টের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু আইনি সংকীর্ণতার কারণে আজও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।’

বিশ্ব কিডনী দিবস উপললক্ষে বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ‘গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার, বীর উত্তম মিলনায়তনে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের সামনে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দানশীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদানে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট দলের কারিগরি তত্ত্বাবধানে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের সহায়তায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল স্যার ফজলে হাসান আবেদ ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। যার আনুমানিক প্রাক্কালন ৭৫ কোটি টাকা। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যে যেখানে খরচ হয় ৩০ লাখ টাকা সেখানে আমরা মাত্র দেড় লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারব।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘কিডনি রোগ প্রকট আকার ধারণ করায় শঙ্কা বাড়ছে। ওষুধের দাম অনেক বেশি। সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা কাটছেই না। হাইকোর্টের দেওয়া অঙ্গ সংযোজনের রায় আজও বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু মানুষের কারণে আমরা আটকে পড়েছি।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘অন্য কোনো রোগ হলে ওষুধ খেয়ে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু কিডনি দীর্ঘমেয়াদী রোগ হওয়ায় ব্যয়ভার অনেক বেশি। সরকার ভারতীয় কোম্পানিকে ২২০০ টাকা সাবসিডি দেয়, আমরা ৯০০ টাকা চেয়েছিলাম কিন্তু তা পাচ্ছি না। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কিডনি সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।’

কিডনি প্রতিস্থাপনে ইরানের পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরানে কিডনি দাতাকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। ব্যক্তির সঙ্গে নয়, কিডনি বিনিময় রাষ্ট্রের সঙ্গে হয় সেখানে। ফলে কোনো ধরনের পাচার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।’

ডা. মাসরুরা জাবিনের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফি, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মনজুর কাদির আহমেদ।